
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট দারুল কুরআন ইসলামিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় তালা দেওয়া অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন টিপু ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। তালা দেওয়ার সময় বাঁধা দেয়ায় মবের শিকার হয়েছেন মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আহমদ হোসাইন। রোববার সকালের পুলিশের সহযোগীতায় তালা খুলেন শিক্ষকরা।
জানাগেছে, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মাওলানা আবদুল আউয়াল অসুস্থ হওয়ার পর মাদ্রাসাটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় ফেনী রশিদিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে। রশিদিয়া তখন মুহতামিমের দায়িত্ব দেন আউয়াল হুজুরের সন্তান হাফেজ আবদুল্লাহ নিকট। পরবর্তীতে হাফেজ আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে নানানরকম অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তাকে বহিষ্কার করে রশিদিয়া মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। বৈঠকের মাধ্যমে নতুন মুহতামিমকে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়।
এরই জেরে, শনিবার রাতে ৫০-৬০ জনের একদল যুবক মাদ্রাসায় এসে এতিমখানার ছাত্রদের বের করে দিয়ে সেখানে তালা মেরে দেয়, পরবর্তীতে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আহমদ হোসাইন বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করে, অফিসকক্ষে তালা দেয়। পরবর্তীতে একে একে মাদ্রাসার সব কক্ষে তালা দিয়ে সবাইকে চলে যেতে বলে। ঘটনার পরপরই ৯৯৯ নাম্বারে কল করে ফুলগাজী থানা পুলিশের সহায়তা চায়, রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটা টিম উপস্থিতি হয়।
ফুলগাজী থানার ওসি (তদন্ত) নুরুল ইসলাম জানান, ৯৯৯ নাম্বারে কল পেয়ে শুক্রবার(১৯ ডিসেম্বর) পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছিলো। মূলত কমিটি নিয়ে বিরোধের কারণে মাদ্রাসা তালাবন্ধ ছিল।
মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আবদুল কাইয়ুম জানান, বিএনপি নেতা টিপুর নেতৃত্বে মাদ্রাসায় একদল যুবক হামলা চালায়, সেখানে হাফেজ আবদুল্লাহও উপস্থিতি ছিলেন। এসময় একজন শিক্ষককে মারধর করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমজাদহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন টিপু জানান, এটা মাদরাসার ঝামেলা, আমি এসবে ছিলাম না। রাজনৈতিক গ্রুপিং এর কারণে আমার নাম আসছে।
দেশপক্ষ/ এমএইচ