
চট্টগ্রামের রাউজানে গভীর রাতে বাইরে থেকে দরজা আটকে দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুটি পরিবারের বসতঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। টিন ও বাঁশের বেড়া কেটে বের হয়ে দুই পরিবারের আট সদস্য অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান। ঘটনাটি ঘটে সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত পৌনে চারটার দিকে রাউজান পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সুলতানপুর গ্রামে।
আগুনে পুড়ে যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সুখ শীল ও অনিল শীলের চারটি কক্ষ। সুখ শীল দুবাইপ্রবাসী এবং অনিল শীল পেশায় দিনমজুর। টিন ও বাঁশের বেড়া দিয়ে নির্মিত ঘরগুলোতে পরিবারের সদস্যরা রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ আগুন লাগলে বের হতে গিয়ে তাঁরা দেখেন, ঘরের দরজায় বাইরে থেকে হুক (লক) লাগানো। পরে টিন ও বাঁশের বেড়া কেটে তাঁরা বের হয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও নগদ অর্থ পুড়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মিঠুন শীল মিঠু বলেন, আমি একজন প্রবাসী। আগুনে আমার পাসপোর্টসহ প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ও প্রয়োজনীয় মালামাল পুড়ে গেছে। এখন আমরা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছি।
খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) সিরাজুল ইসলাম, রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা এবং রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার দুটিকে ২৫ কেজি চাল, নগদ ৫ হাজার টাকা ও কম্বল প্রদান করা হয়।
রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পিতভাবে দরজা বন্ধ করে আগুন দেওয়া হয়েছে। দুর্বৃত্তদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, এর আগেও রাউজানে একই কায়দায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
দেশপক্ষ/ এমএইচ