
দীর্ঘ ১৮ বছর বিদেশে অবস্থানের পর আগামীকাল দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে তিনি সাধারণ নাগরিক হিসেবে দেশে ফিরছেন না অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিশেষ উদ্যোগে আইন সংশোধন করে তাঁকে দেওয়া হচ্ছে (ভিআইপি) মর্যাদা এবং রাষ্ট্রীয় বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর পূর্ণ নিরাপত্তা বলয়।
একজন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার জন্য প্রচলিত আইন পরিবর্তন করে এমন রাষ্ট্রীয় সুবিধা দেওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অভিযোগ উঠেছে, শুধুমাত্র তারেক রহমানকে বিশেষ সুবিধা দিতে ২০২১ সালের এসএসএফ আইন তড়িঘড়ি করে সংশোধন করা হয়েছে।
সংশোধিত আইনের আওতায় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও সরকার প্রধানদের জন্য নির্ধারিত এসএসএফ নিরাপত্তা এখন দেওয়া হচ্ছে একজন দলীয় পদে থাকা রাজনৈতিক নেতাকে। সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তারেক রহমানকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে তাঁর বাসভবন, অফিস, রাজনৈতিক কর্মসূচি এমনকি ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও রাষ্ট্রীয় খরচে এসএসএফ সদস্যদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পাবেন তিনি।
উল্লেখ্য, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী ও সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু গত ২৩ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই দীর্ঘদিনের রীতি ও আইনি কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়। সমালোচকদের দাবি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে ভিআইপি সুবিধা দিতে এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
‘নর্থইস্ট নিউজ’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনার ফলে তারেক রহমানের বাসভবন, অফিস ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট সব স্থানে এসএসএফ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। গোয়েন্দা সংস্থার ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে এভাবে রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়া ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের শামিল। তাঁদের মতে, এতে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিচ্ছে।
দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানের পর তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের এই অতিরিক্ত তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে যখন সরকার অর্থনৈতিক সংস্কার ও ব্যয় সংযমের কথা বলছে, তখন একজন রাজনৈতিক নেতার নিরাপত্তায় এসএসএফের মতো ব্যয়বহুল এলিট ফোর্স নিয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে একটি বিতর্কিত দৃষ্টান্ত হয়ে থাকতে পারে।
দেশপক্ষ/ এমএইচ