
ভারতের উত্তর প্রদেশের ঐতিহ্যবাহী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (এএমইউ) ক্যাম্পাসে এক স্কুল শিক্ষককে গুলি করে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাতের এই ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এনডিটিভির খবরে জানা যায়, বুধবার রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির নিকটে এ রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত শিক্ষকের নাম দানিশ রাও। তিনি গত ১১ বছর ধরে এএমইউ ক্যাম্পাসের এবিকে হাই স্কুলে কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় দানিশ রাও তার দুই সহকর্মীর সঙ্গে ক্যাম্পাসে হাঁটছিলেন। হঠাৎ করে স্কুটারে করে আসা দুই যুবক তাদের পথরোধ করে। এ সময় তারা পিস্তল উঁচিয়ে ভয়ভীতি দেখায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, হামলাকারীদের একজন দানিশকে লক্ষ্য করে চিৎকার করে বলে, “তুমি আমাকে এখনো চেনো না, এখন চিনবে।” এই হুমকির পরপরই দানিশ রাওকে লক্ষ্য করে পরপর গুলি চালানো হয়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গুরুতর আহত দানিশ রাওকে দ্রুত জওহরলাল নেহরু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আলিগড়ের পুলিশ সুপার নীরজ যাদব জানান, হামলাকারী দুজনেই গুলি চালিয়েছিল এবং ঘটনার পরপরই তারা স্কুটারে করে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য ইতোমধ্যে ছয়টি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ ওয়াসিম আলি জানান, ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হামলাকারীদের গতিপথ শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি এমন এক সময় ঘটল, যখন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ রাজ্য বিধানসভায় রাজ্যের ‘উন্নত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি’র সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের দিনেই একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুরো এএমইউ ক্যাম্পাসজুড়ে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা।
-নি/ এমএইচ