
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
বিরোধী মত দমনের অভিযোগ এবং দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর চলমান হামলা-মামলার প্রেক্ষিতে দলের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা জারি করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দলের অভ্যন্তরীণ সব বিভেদ ভুলে এখনই রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় যুক্ত হয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল না হারানোর আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘যারা আজ নির্যাতন চালাচ্ছে, তাদের ছবি ও প্রমাণ জমিয়ে রাখুন। সময় আসবে, তখন কড়ায়-গণ্ডায় সবকিছুর বিচার হবে।’’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর ধরপাকড় ও প্রশাসনিক হয়রানির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি অভিযোগ করেন, ভিন্নমতের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়ে বর্তমান প্রশাসন ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চাইছে। এই পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের ভীত না হয়ে সাহসিকতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দেন তিনি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘আপনারা ভয় পাবেন না। সব ভেদাভেদ ভুলে এখনই মাঠে নামুন। যারা আজ ক্ষমতার দাপট দেখাচ্ছে, যারা পুলিশ দিয়ে বা সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে আমাদের কর্মীদের ঘরবাড়ি ভাঙছে, তাদের চেহারাগুলো চিনে রাখুন। নির্যাতনের ছবি আর ভিডিও প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করুন। আমি কথা দিচ্ছি, প্রতিটি আঘাতের বিচার হবে। আইনের মাধ্যমেই একচুলও ছাড় না দিয়ে কড়ায়-গণ্ডায় হিসাব চুকানো হবে।’’
বক্তব্যে প্রশাসনের কতিপয় অতি উৎসাহী কর্মকর্তার ভূমিকারও কঠোর সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, যারা আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছে, তাদের আমলনামাও তোলা থাকছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘যারা ভাবছেন এই দিনই শেষ দিন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। ক্ষমতার পট পরিবর্তন হলে কোনো অজুহাতই কাজে আসবে না। অতি উৎসাহী হয়ে যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করছেন, তাদের পরিণতি ভালো হবে না।’’
দীর্ঘদিন পর দলীয় প্রধানের এমন আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী বার্তা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে ২৫ ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে যখন রাজধানীতে এক ধরনের টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং হাসপাতালগুলোকে জরুরি প্রস্তুতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে শেখ হাসিনার এই বার্তা রাজনীতির মাঠকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শেখ হাসিনার এই বক্তব্য মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার বিরোধীরা একে ‘অস্থিতিশীলতা তৈরির উসকানি’ হিসেবে দেখলেও, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একে দেখছেন ঘুরে দাঁড়ানোর এবং মাঠ দখলের চূড়ান্ত নির্দেশনা হিসেবে। সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার এই হুঁশিয়ারি আসন্ন দিনগুলোতে সংঘাতমুখর রাজনীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে ।
দেশপক্ষ/ এমএইচ