ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৭:০২ পূর্বাহ্ন

তারেক রহমানের জন্য কি আলাদা আইন?

এক সময়ের দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানকে ঘিরে সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা দেশের আইনশাসন ও সমতার নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে যেখানে আইন কঠোর ও তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োগ হয়, সেখানে তারেক রহমানের ক্ষেত্রে একের পর এক ব্যতিক্রমী সুযোগ–সুবিধা কি আইনের সমান প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছে—এমনটাই মনে করছেন অনেকেই।

single-ad-main-1

দেশে প্রবেশের পরপরই কয়েকটি ঘটনা জনদৃষ্টিতে আসে। নির্ধারিত টোল প্লাজায় টোল পরিশোধ না করার অভিযোগ ওঠে, যা সাধারণ মানুষের জন্য দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এ ঘটনায় কোনো দৃশ্যমান আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—আইন কি সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে?

এরপর আরও বিতর্কের সৃষ্টি হয় নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর তারেক রহমানের ভোটার হওয়া নিয়ে। নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা অনুযায়ী, তফসিল কার্যকর থাকাকালে নতুন করে ভোটার হওয়া আইনত নিষিদ্ধ। অথচ সেই সময়েই তারেক রহমানের ভোটার হওয়া নিয়ে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়, কারণ ওই দিনটি ছিল শনিবার—সরকারি সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে জনমনে প্রশ্ন জাগে, কীভাবে এবং কার নির্দেশে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো?

বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি ধারাবাহিক চিত্র তুলে ধরে, যেখানে তারেক রহমানের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। এতে সংবিধানে ঘোষিত “আইন সবার জন্য সমান”—এই মৌলিক নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

single-ad-main-2

সাধারণ নাগরিক হলে যেসব ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হতো, সেসব বিষয়ে নীরবতা কেন—এ প্রশ্নও উঠছে। দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েও কেন তিনি বারবার বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন, আইন ভঙ্গের অভিযোগগুলো কেন উপেক্ষিত থাকছে—এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরাধ কখনো ছোট বা বড় হয় না—অপরাধ অপরাধই। ছোট অপরাধকে যদি ক্ষমতা বা প্রভাবের মাধ্যমে উপেক্ষা করা হয়, তবে তা ভবিষ্যতে বড় অপরাধকে উৎসাহিত করতে পারে। এতে শুধু একজন ব্যক্তি নয়, পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ অবস্থায় জনমনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—আইন কি সত্যিই সবার জন্য সমান, নাকি তারেক রহমানের জন্য আলাদা নিয়ম কার্যকর হচ্ছে? এই প্রশ্নের স্পষ্ট ও স্বচ্ছ উত্তর না মিললে আইনশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও সংকটে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ