
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দিতে যাত্রীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার পর বেপরোয়া গতিতে বাস চালাতে শুরু করেন চালক। এক পর্যায়ে যাত্রীবাহী বাসটি ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল আরোহীদের চাপা দেয়। এর পরপরই বাসটি সড়কের পাশে উল্টে পড়ে গেলে আগুন ধরে যায়। এতে দগ্ধ হয়ে চারজন নিহত হন এবং আহত হন কমপক্ষে ৩০ জন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু, এক নারী, একজন পুরুষ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশ ও দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস।
নিহতরা হলেন- নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মাঝেরচর গ্রামের সুমন মিয়ার ছেলে হোসাইন (১৬ মাস)। শিশুটি ও তার পরিবার বাসের যাত্রী ছিলেন।
মোটরসাইকেল আরোহী দাউদকান্দি উপজেলার পেন্নই গ্রামের মো. শামীম হোসেন(৩৮) ও তার ছেলে নাদিফ হোসেন (৭)। তারা পাশের বানিয়াপাড়া দরবার শরিফের মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। বাসের নিহত নারী যাত্রীর পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার জিংলাতলি ইউনিয়নের বানিয়াপাড়ায় চট্টগ্রামগামী লেনে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশাকে চাপা দেয় সিডিএম পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস।
এসময় বাসটি উল্টে সড়কের ওপর পড়ে গেলে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। বাসের ভেতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। আহত ৩০ জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেসহ কুমিল্লা ও ঢাকায় পাঠানো হয়। এ সময় বানিয়াপাড়া থেকে গৌরিপুর পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়।
নিহত হোসাইনের বাবা সুমন মিয়া জানান, পরিবারসহ তিনি কুমিল্লা দেবিদ্বার আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। চট্টগ্রাম লেনে চলা বাসটি বিভিন্ন স্থানে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছিলেন। এতে বাসের যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে চালককে না দাঁড়াতে অনুরোধ করেন। এনিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে বেপরোয়া গতিতে বাস চালানো শুরু করেন চালক। এসময় অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলকে চাপা দিয়ে বাসটি উল্টে যায়। এক পর্যায়ে বাসটিতে আগুন ধরে যায়।
দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার মো. এরশাদ জানান, অগ্নিদগ্ধ বাসটির আগুন নেভানো হয় এবং বাসের ভেতর থেকে নিহত তিনজনসহ চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সন্দ্বীপ সাহা বলেন, বাসের অতিরিক্ত গতি ছিল। হার্ডব্রেকের কারণে উল্টে সড়কের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে অথবা মোটরসাইকেলকে চাপ দেওয়ায় জ্বালানি ট্যাংক ফেটে অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুই শিশু, এক নারী ও এক পুরুষের লাশ উদ্ধার করেছে। এছাড়া যান চলাচল স্বাভাবিক করেছে। এদিকে ঘাতক বাস চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছে পুলিশ।
-নি/ এমএইচ