
ছবি: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর বিজয়ের পূর্ণতা এনে দিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। সেদিন জনতার নেতা ফিরে এসেছিলেন জনতার মাঝেই।
মহান মুক্তির সংগ্রামের অবিসংবাদিত এই নেতাকে ফিরে পেয়ে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা পূর্ণতা লাভ করে। রেসকোর্স ময়দানে লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। চোখের অশ্রু সংবরণ করতে না পেরে জনতার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যান তিনি। নিজের জীবনের বিনিময়ে বাঙালির স্বাধীনতা চেয়েছিলেন বলেই সেই ঐতিহাসিক দিনে তিনি দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করেন—
“আমার বাংলাদেশ আজ স্বাধীন হয়েছে, আমার জীবনের সাধ আজ পূর্ণ হয়েছে, আমার বাংলার মানুষ আজ মুক্ত হয়েছে।”
সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও রক্তের সাগর পাড়ি দিয়ে অর্জিত এই স্বাধীনতাকে অসম্ভব থেকে সম্ভব করার ইতিহাস হিসেবেই দেখেছেন বঙ্গবন্ধু। তাই তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পঙক্তি উদ্ধৃত করে বলেন— “সাত কোটি বাঙালির হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি”— আজ তা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। আমার বাংলার মানুষ আজ মানুষ হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর বাংলার প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও বাঙালির প্রতি অগাধ বিশ্বাসই ছিল তাঁর রাজনীতির মূল প্রেরণা।
১০ জানুয়ারি বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের বিজয় পূর্ণতা লাভের দিন হিসেবে ইতিহাসে চিরভাস্বর। বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে স্পষ্ট করে বলেছিলেন—
“এ স্বাধীনতা পূর্ণ হবে না যদি বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত না পায়, যদি বাংলার মা-বোনেরা কাপড় না পায়, যদি এ দেশের যুবকরা কাজ না পায়।”
জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল শোষণমুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত ও বৈষম্যহীন একটি সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনীতি, অবকাঠামো, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল অগ্রগতির পথে এগিয়ে চলেছিল। যুদ্ধাপরাধের বিচার, সংবিধানের মূলনীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দারিদ্র্য হ্রাস—সবই ছিল বঙ্গবন্ধুর ১০ জানুয়ারির ভাষণে ঘোষিত আদর্শের ধারাবাহিক বাস্তবায়ন। পরবর্তী ইতিহাস জাতির জীবনে এক অমোচনীয় ক্ষত হয়ে আছে।
এই ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি:-
১. ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন।
২. সূর্যোদয় ক্ষণে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে দলীয় ও সহযোগী সংগঠনের সকল কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন।
৩. ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন।
৪. গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত।
৫. দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা ও ভার্চুয়াল আলোচনা সভা আয়োজন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনসমূহের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সারাদেশে উপযোগী কর্মসূচি পালনের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশপক্ষ/ এমএইচ









