ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৬:১৬ পূর্বাহ্ন

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: পূর্ণতা পাওয়া এক স্বাধীনতার মহাকাব্য

বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশ সাধারণ মানুষের কাছে ছিল কল্পনাতীত; এমনকি বিজয়ের স্বাদও বাঙালির কাছে ছিল অপূর্ণ। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ণতা পায়।

single-ad-main-1

​১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে গণহত্যা শুরু করলে ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ঘোষণার পরপরই পাকিস্তানি বাহিনী তাঁকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি করে রাখে। তবে বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথেই বাঙালি জাতি দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে। বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের।

​১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু তখনও পাকিস্তানের নির্জন কারাগারে বন্দি। ফলে সদ্য স্বাধীন দেশের চারপাশজুড়ে ছিল এক অপূর্ণতার হাহাকার। সাধারণ মানুষের মনে বিজয়ের পূর্ণ আত্মতৃপ্তি ছিল না, ছিল না কারো মুখে স্বস্তির হাসি। এমনকি বঙ্গবন্ধুবিহীন দেশে ফিরতে সংশয়ে ছিলেন ভারতে আশ্রয় নেওয়া বিপুল সংখ্যক শরণার্থীও।

​সেই সময় স্বাধীন দেশে শুরু হয় এক নতুন সংগ্রাম— বঙ্গবন্ধুকে ফিরে পাওয়ার সংগ্রাম। তিনি আদৌ জীবিত আছেন কি না, কিংবা পাকিস্তান সরকার তাঁকে মুক্তি দেবে কি না— এসব নিয়ে দেশ-বিদেশে চলছিল নানা জল্পনা-কল্পনা।

single-ad-main-2

​অবশেষে সকল উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতার ২৩ দিন পর, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বেলা ১টা ৪১ মিনিটে বাঙালির আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার পবিত্র মাটিতে পা রাখেন। ১৬ই ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়েই জাতি বিজয়ের প্রকৃত স্বাদ গ্রহণ করে।

​১০ জানুয়ারি ছিল বাঙালির বহু কাঙ্ক্ষিত ও প্রতীক্ষিত একটি দিন। যাঁকে কেন্দ্র করে এবং যাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার মানুষ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেই মহান নেতার সান্নিধ্য পেয়ে পুরো জাতি নতুন করে উজ্জীবিত হয়।

​বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ইতিহাসবিদ, প্রত্যক্ষদর্শী ও রাজনীতিবিদদের সাক্ষ্য থেকে এটি স্পষ্ট যে, বঙ্গবন্ধু সেই সময় জীবিত অবস্থায় ফিরে না এলে সদ্য স্বাধীন দেশ এক ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ত। মূলত তাঁর বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী কূটনৈতিক তৎপরতার কারণেই বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতের মিত্রবাহিনী দ্রুত স্বদেশে ফিরে যায়। তাঁর ব্যক্তিগত ক্যারিশমা ও নেতৃত্বের কারণেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশকে দ্রুত স্বীকৃতি প্রদান করে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র সমর্পণ করানোর মতো কঠিন কাজগুলোও তাঁর উপস্থিতির কারণেই দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছিল।

​বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে সুসংহত করতে তৎকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর প্রত্যাবর্তন ছিল অপরিহার্য। জাতির পিতার এই ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন মহান মুক্তিযুদ্ধের ধারাবাহিক ইতিহাসের এক অনন্য মাইলফলক। ১০ জানুয়ারির সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই পূর্ণতা পেয়েছিল স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

​জাতির পিতার স্বপ্নের সেই বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও , বঙ্গবন্ধু আজ উপেক্ষিত। কয়েক দফায় ধানমন্ডি ৩২ এ অগ্নিসংযোগ, বুলডোজার চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়া, দেশব্যাপি বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের সকল স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলা, পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস বিকৃতি সহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে ফেলার সব আয়োজন শেষ করেছে বর্তমান শাসক গোষ্ঠী । ৭১ এর পরাজিত শক্তি, ৭৫ খুনীচক্র ও তাদের দোসর দেশী ও বিদেশি বন্ধুদের আম্তর্জাতিক সব ষড়যন্ত্র অব্যহত বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করার।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে এদেশের মুক্তিকামী, নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষ স্বপ্ন দেখে স্বাধীনতা বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ তাঁর আপন ঠিকানা খুঁজে পাবে আওয়ামী সভাপতি,বঙ্গবন্ধুর রক্ত ও আদর্শের যোগ্য উত্তরসুরি শেখ হাসিনার সাহসী স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে । আবার উন্নয়ন, অগ্রগতি আর সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ তাঁরই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। তাঁর মানবিক ও ভিশনারি নেতৃত্বের মধ্য দিয়েই বাঙালির সকল শূন্যতা পূর্ণতায় রূপ নেবে , যাঁর মাঝে জাতি খুঁজে পাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিচ্ছবি।

​( মানিক লাল ঘোষ : সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ সভাপতি)

দেশপক্ষ/ এমএইচ

 

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ