ঢাকা, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ৬:১৫ পূর্বাহ্ন

ইরানে নিষ্ক্রিয় ইলন মাস্কের স্টারলিংক

প্রথম দেশ হিসেবে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যত অচল করে দিয়েছে ইরান। সামরিক জ্যামার ব্যবহার করে স্যাটেলাইট সংযোগ বন্ধ করার এই পদক্ষেপকে নজিরবিহীন ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

single-ad-main-1

ইরান ওয়্যারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ভেতরে কয়েক হাজার স্টারলিংক ইউনিট সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে সেগুলোর স্যাটেলাইট সংযোগে গুরুতর ব্যাঘাত ঘটছে। শুরুতে স্টারলিংকের আপলিংক ও ডাউনলিংক ট্র্যাফিকের প্রায় ৩০ শতাংশে সমস্যা দেখা দিলেও কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তা বেড়ে ৮০ শতাংশের বেশি হয়ে যায়।

টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানে স্টারলিংক রিসিভারের সংখ্যা অনেক বেশি। তবে ইরান সরকার কখনোই স্টারলিংক ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি। ফলে দেশটিতে এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা অবৈধ হিসেবেই বিবেচিত।

স্টারলিংক রিসিভারগুলো স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে জিপিএস সিগন্যালের ওপর নির্ভরশীল। টাইমস অব ইসরাইল জানায়, গত বছরের জুনে ইসরাইলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘাতের পর থেকেই ইরান নিয়মিতভাবে জিপিএস সিগন্যাল ব্যাহত করে আসছে। এর ফলে স্টারলিংক ইন্টারনেট বন্ধের প্রভাব এলাকাভেদে ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে—কোথাও আংশিক সংযোগ, আবার কোথাও প্রায় সম্পূর্ণ ব্ল্যাকআউট দেখা গেছে।

single-ad-main-2

এদিকে দেশের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইন্টারনেট সেবা দ্রুত সময়ের মধ্যে পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সোমবার (১২ জানুয়ারি) তিনি জানান, সরকার ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে দ্রুত বিভিন্ন বিদেশি দূতাবাস এবং সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে ডিজিটাল সংযোগ পুনঃস্থাপনের আশ্বাস দেন তিনি।

উল্লেখ্য, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনের অংশ হিসেবে গত চার দিন ধরে দেশটিতে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে। নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও তীব্র মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে ইরানের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে।

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ