
ক্ষমতায় টিকে থাকার চেয়ে মানবিক মূল্যবোধ ও ন্যায়বিচারকে রাজনীতির মূল আদর্শ হিসেবে গুরুত্ব দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এমন মন্তব্য করেছেন তার ছেলে ও সাবেক তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা চাইলে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকতে পারতেন, কিন্তু তিনি সেই ধ্বংসাত্মক পথ বেছে নেননি।
সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, “আমার মা যদি আন্দোলনকারীদের হত্যা করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চাইতেন, তাহলে তিনি আজও প্রধানমন্ত্রী থাকতেন।” তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ক্ষমতার জন্য রক্তপাত ও অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা শেখ হাসিনার রাজনীতির দর্শনের অংশ নয়।
বিশ্ব রাজনীতির উদাহরণ টেনে জয় বলেন, “ইরানের দিকে তাকালেই বোঝা যায়, কীভাবে কঠোর দমনপীড়নের মাধ্যমে একটি সরকার টিকে থাকতে পারে। কিন্তু কঠোরতা আর ন্যায়বিচার এক জিনিস নয়।” তার মতে, ক্ষমতায় থাকা নয়, বরং ন্যায়বিচার ও মানবিকতার পথ বেছে নেওয়াই প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয়।
আন্দোলনকালীন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেন যে, তৎকালীন সরকার ও আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হয়েছিল। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি ‘মিসহ্যান্ডেল’ করা হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের একজন শীর্ষ নেতার এমন আত্মসমালোচনা বিরল এবং এটি রাজনৈতিক সাহসিকতার পরিচয় বহন করে।
তবে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ শেখ হাসিনা দিয়েছিলেন—এমন অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন জয়। তিনি বলেন, “এর কোনোটিই আমার মায়ের নির্দেশে হয়নি।”
ন্যায়বিচার প্রসঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ন্যায়বিচার কোনো প্রতীকী বা নির্বাচিত প্রক্রিয়া হতে পারে না। “ন্যায়বিচার কোনো অর্থহীন ক্ষমার নাম নয়। এটি সবার জন্য সমান হতে হবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনাই প্রকৃত বিচার,”—বলেন তিনি। তার মতে, বিশেষ কোনো গোষ্ঠীকে দায়মুক্তি দেওয়া বা বেছে বেছে বিচার করা ন্যায়বিচারের মূল চেতনার পরিপন্থী।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সজীব ওয়াজেদ জয়ের এই সাক্ষাৎকারকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ক্ষমতা বনাম ন্যায়বিচারের দ্বন্দ্বে জয় স্পষ্টভাবে ন্যায়বিচারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি শেখ হাসিনার নৈতিক অবস্থান ও রাজনৈতিক দর্শন নতুন করে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরেছেন।
দেশপক্ষ/ এমএইচ