
আসন্ন গণভোটকে ‘সংবিধানবিরোধী ও অবাস্তব’ আখ্যা দিয়ে দেশবাসীকে এতে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তিনি মনে করেন, এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হলে দেশ চরম অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে যাবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জি এম কাদের বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিক সরকার হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছে। শপথের সময় তারা সংবিধান সংরক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অথচ সংবিধান অনুযায়ী, সংবিধান সংশোধনের মতো জটিল বিষয় গণভোটের মাধ্যমে করার কোনো বিধান নেই। এটি কেবল নির্বাচিত সংসদই নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে পারে।’
সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবিত বিষয়গুলোকে অত্যন্ত জটিল উল্লেখ করে জাপা চেয়ারম্যান বলেন, ‘এত গভীর ও জটিল একটি বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ প্রশ্নে উপস্থাপন করা অবাস্তব। বিশেষ করে গ্রাম পর্যায়ের সাধারণ মানুষের কাছে এ ধরনের বিষয় এভাবে উপস্থাপন করা অদ্ভুত ও অযৌক্তিক। ক্ষমতার ভারসাম্য প্রসঙ্গে জি এম কাদের আরও বলেন, ‘ক্ষমতার লাগাম টানতে হবে জবাবদিহির মাধ্যমে।
কিন্তু সম্পূর্ণভাবে ক্ষমতা কেড়ে নিলে কোনো সরকারই দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। এতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে, সরকার কয়েক দিনের বেশি টিকবে না এবং দেশ ধ্বংসের পথে এগিয়ে যাবে।’
তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মামলার নামে জনগণের ওপর স্টিম রোলার চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। জাপার কর্মী-সমর্থকদের বলা হচ্ছে, নির্বাচনের প্রচার করলে মামলা দিয়ে আটক করে রাখা হবে।
আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদেরও মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে দাবি করে সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের ভোটে অংশ নেওয়ার অধিকার রয়েছে। আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হচ্ছে। মব করে পিটিয়ে মারা হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট বলা হয়, কিন্তু এ সরকারের নিয়োগকর্তা হিসেবে যারা আছে, তারা দেশে নাৎসিজম কায়েম করার চেষ্টা করছে।
মূলত দলীয় প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণার উদ্দেশ্যে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী, দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যসহ শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশপক্ষ/ এমএইচ