ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

দেশবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনার বিশেষ বার্তা

বাংলাদেশ আজ এক চরম সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে বলে মন্তব্য করেছেন উন্নয়নের জননী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি বলেন, প্রিয় মাতৃভূমি আজ এক গভীর সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে—যেখানে রক্তক্ষরণ, অরাজকতা ও অনিশ্চয়তা গ্রাস করেছে জাতীয় জীবনকে।

তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই উর্বর ভূমি আজ উগ্রপন্থী ও বিদেশি অশুভ শক্তির ষড়যন্ত্রে ক্ষতবিক্ষত। গোটা দেশ যেন এক বিশাল কারাগারে পরিণত হয়েছে। সর্বত্র হাহাকার, ভয় ও মৃত্যুর উপত্যকা বিরাজ করছে।

শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা দখল করে একটি পুতুল সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যা জাতির আত্মাকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে গণতন্ত্র নির্বাসিত, মানবাধিকার পদদলিত এবং গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

বিশেষ বার্তায় শেখ হাসিনা বর্তমান পরিস্থিতির কয়েকটি গুরুতর দিক তুলে ধরেন—

আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি: রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত সন্ত্রাস, লুটপাট, সশস্ত্র ডাকাতি ও চাঁদাবাজির রাজত্ব চলছে।

শিক্ষা ও বিচার ব্যবস্থা বিপর্যস্ত: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশৃঙ্খলায় জর্জরিত এবং ন্যায়বিচার সাধারণ মানুষের কাছে দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।

সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি: বিদেশি স্বার্থে দেশের সম্পদ ও ভূখণ্ড হস্তান্তরের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে, যা বাংলাদেশকে বহুজাতিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এই ক্রান্তিলগ্নে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সংবিধান ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে।

তিনি পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান:-

১. গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার: অবৈধ প্রশাসন অপসারণ করে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা।
২. সহিংসতা বন্ধ: রাস্তায় চলমান অরাজকতা ও সহিংসতা বন্ধ করে নাগরিক সেবা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল করা।
৩. নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: ধর্মীয় সংখ্যালঘু, নারী ও সমাজের দুর্বল জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৪. রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধ: সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার করে বিচার ব্যবস্থায় আস্থা ফিরিয়ে আনা।
৫. নিরপেক্ষ তদন্ত: গত এক বছরে সংঘটিত সকল ঘটনার জন্য জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে একটি সত্যিকারের নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা।

শেখ হাসিনা দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, প্রিয় দেশবাসী, আপনারা হাল ছাড়বেন না। আওয়ামী লীগ দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল হিসেবে সবসময় আপনাদের পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে। প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে আসুন আমরা একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধ হই।

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন