
সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে সংঘটিত হামলাকে ‘পরিকল্পিত ও সংগঠিত সহিংসতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীর। তার দাবি, সরকার হয় ইচ্ছাকৃতভাবে এই হামলাগুলো ঘটতে দিয়েছে, নয়তো সেগুলো ঠেকাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে গণমাধ্যম সংস্কার: স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতা ও ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
নুরুল কবীর বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার অভিযোগকে ‘প্রমাণহীন’ বলে দাবি করেছেন। তবে তিনি মনে করেন, প্রেস সচিবের নিজের বক্তব্যই সরকারের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
আলোচনায় নুরুল কবীর দুই গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার রাতে প্রেস সচিবের ফেসবুক পোস্টের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওই পোস্টে শফিকুল আলম উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি সারারাত সরকারের বিভিন্ন মহলে সহায়তা চেয়েও কোনো সাড়া পাননি। নুরুল কবীরের যুক্তি, “যদি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব নিজেই সাহায্য না পান, তাহলে সেটি প্রমাণ করে সরকার ঘটনাগুলো ঘটতে দিয়েছে।”
ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে আগুন দেওয়ার ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কোনো স্বতঃস্ফূর্ত বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হামলা।
গণতান্ত্রিক সমাজে সাংবাদিকতার ভূমিকা ব্যাখ্যা করে নুরুল কবীর বলেন, সাংবাদিকতার মূল কাজ হলো ক্ষমতার সমালোচনা করা। “যে সাংবাদিকতা ক্ষমতার বিরোধিতা করে না, তা সাংবাদিকতা নয়, জনসংযোগ,” বলেন তিনি। তার মতে, ক্ষমতায় কে রয়েছে তা মুখ্য নয়; বরং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করাই গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার প্রধান দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেবল সাংবাদিকদের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি জনগণের মৌলিক অধিকার। এই স্বাধীনতার মাধ্যমেই জনমত গড়ে ওঠে, যা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।
বক্তব্যে সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা ও ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে নুরুল কবীর বলেন, এটি শুধু সরকারের নয়, গণমাধ্যম মালিকদেরও দায়িত্ব। একই সঙ্গে সাংবাদিক ও মালিক উভয় পক্ষের জন্য স্বচ্ছতা ও একটি কার্যকর আচরণবিধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
পেশাদার ঐক্যের অভাব গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে বলে সতর্ক করে দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি ‘জাতীয় বুদ্ধিবৃত্তিক সংকট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
দেশপক্ষ/ এমএইচ