
জাতিসংঘ চরম আর্থিক সংকটের দিকে এগোচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দীর্ঘদিনের বকেয়া বার্ষিক চাঁদা ও নানা কাঠামোগত সমস্যার কারণে এই বৈশ্বিক সংস্থাটি বর্তমানে গুরুতর অর্থনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চলতি সপ্তাহের শুরুতে গুতেরেস জাতিসংঘের সব সদস্য দেশের কাছে একটি জরুরি চিঠি পাঠান। সেখানে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় অর্থ না পেলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের তহবিল সম্পূর্ণ ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জাতিসংঘের মুখপাত্র ফারহান হক বলেন, এখন চাঁদা পরিশোধ করা এখন নয় তো কখনোই নয়—এই সংকটময় পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে।
চিঠিতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি দ্রুত তাদের নির্ধারিত চাঁদা পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রয়োজনে জাতিসংঘের আর্থিক ব্যবস্থায় সংস্কার আনার কথাও উল্লেখ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আগের বছরগুলোর মতো নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত নগদ অর্থ বর্তমানে জাতিসংঘের হাতে নেই। এই আর্থিক দুরবস্থার বিষয়ে মহাসচিব প্রতিবছরই সদস্য দেশগুলোকে সতর্ক করে আসছেন বলেও জানান তিনি।
গুতেরেস সরাসরি কোনো দেশকে এই সংকটের জন্য দায়ী না করলেও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোতে ওয়াশিংটনের অর্থায়ন হ্রাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থাসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
এ ছাড়া ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ নামে একটি নতুন সংস্থা গঠন করেছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রথমে গাজা যুদ্ধ বন্ধ এবং অঞ্চলটির পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক সংকটেও এই সংস্থার মাধ্যমে ভূমিকা রাখার কথা ভাবছেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই বোর্ড জাতিসংঘকে আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রান্তিক করে দিতে পারে।
আরও পড়ুন
ইরানে হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে কড়া বার্তা হাতামির
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জাতিসংঘবিষয়ক পরিচালক লুই শারবোনো সতর্ক করে বলেন, স্থায়ী সদস্যপদের জন্য এক বিলিয়ন ডলার ফি নির্ধারণের ধারণা ট্রাম্পের এই বোর্ডকে একটি ‘পে-টু-প্লে’ বৈশ্বিক ক্লাবে পরিণত করতে পারে। তাঁর মতে, সরকারগুলোর উচিত অর্থের বিনিময়ে এমন কাঠামোয় যুক্ত হওয়ার বদলে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে একসঙ্গে কাজ করা, যাতে মানবাধিকার, মানবিক আইন, আন্তর্জাতিক আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা বজায় থাকে।
জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর বার্ষিক চাঁদার পরিমাণ নির্ধারিত হয় তাদের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), ঋণের পরিমাণসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকের ভিত্তিতে। জাতিসংঘের মূল বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ—২২ শতাংশ—যোগান দেয় যুক্তরাষ্ট্র, এরপরই রয়েছে চীন, যার অবদান ২০ শতাংশ।
গুতেরেস জানান, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাতিসংঘের বকেয়া চাঁদার পরিমাণ বেড়ে রেকর্ড ১ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে কোন কোন দেশ এই চাঁদা পরিশোধে বিলম্ব করছে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
দেশপক্ষ/ এমএইচ