
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথমবারের মতো সরাসরি একটি রাজনৈতিক ঘরানার কর্মসূচিতে উপস্থিত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। দীর্ঘ সময় পর প্রকাশ্য মঞ্চে তার অংশগ্রহণ ঘিরে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান নিলেও দলীয় কর্মসূচিতে জয়কে তেমনভাবে দেখা যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে একাধিক সাক্ষাৎকারে দলের অবস্থান তুলে ধরে তিনি ধীরে ধীরে দলীয় মুখপাত্রের ভূমিকায় উঠে আসেন।
ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টায় কলকাতার সত্যজিৎ রায় মিলনায়তন–এ একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেবেন জয়। আয়োজকদের ভাষ্য, প্রায় ৩০০ আমন্ত্রিত প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে ভারতের কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বও যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে। সাবেক সংসদ সদস্য স্বপন দাসগুপ্ত অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হিসেবে থাকবেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত তথাকথিত ‘মাইনাস-টু’ সমীকরণ বাস্তব রূপ পায় ২০২৪ সালের আগস্টে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা দেশের বাইরে, আর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতেও রাজনৈতিক ময়দান নতুন ভারসাম্য খুঁজছে। এ প্রেক্ষাপটে লন্ডনপ্রবাসী তারেক রহমান প্রকাশ্যে সক্রিয় হলেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সমপর্যায়ের নতুন মুখ এখনো দৃশ্যমান হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জয়ের এই উপস্থিতি কেবল একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নয়, বরং আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে একটি প্রতীকী বার্তাও হতে পারে। ইতোমধ্যে দলের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা রয়েছে আগামী দিনের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার পুত্রের ভূমিকাই কি প্রধান হয়ে উঠছে।
আওয়ামী লীগের আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও, জয়ের প্রকাশ্য উপস্থিতি দলটির পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল ও প্রজন্মগত রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
দেশপক্ষ/ এমএইচ