
হেফাজতে ইসলামের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় এলে ইসলাম ও মুসলমানদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা যারা মুসলমান আমাদের জন্য জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেওয়া ‘জায়েজ হবে না’।
শুক্রবার ( ৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ফটিকছড়ি উপজেলার কাজীর হাট বড় মাদ্রাসায় আয়োজিত এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বোখারি শরীফ খতম উপলক্ষে আয়োজিত এ মাহফিলে স্থানীয় আলেম-ওলামা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বাবুনগরীর বক্তব্যের একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তাকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলতে শোনা যায়, “সমস্ত মুসলমানদের বলি, তাদের ভোট দেওয়া হারাম; জায়েজ হবে না।”
তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামী ইসলামের আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে না। কঠোর ভাষায় তিনি বলেন, “আমরা যদি কঠোরভাবে ভোট থেকে তাদের বঞ্চিত করতে না পারি, তারা যদি ক্ষমতায় আসে, তাহলে ইসলামের গোড়া কেটে ফেলবে, মুসলমানের ক্ষতি করবে।”
একই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের প্রতি সমর্থন জানান হেফাজত আমির। প্রার্থীকে পাশে বসিয়ে তিনি বলেন, “আমরা তাকে ভোট দিচ্ছি তা নয়, তাকে সামনে রেখে জিহাদ করছি—মওদুদির জামায়াতের বিরুদ্ধে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি ইলেকশন বুঝি না; এটা জিহাদ।” তার এমন মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছে।
এর আগেও একাধিকবার প্রকাশ্যে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করেছেন বাবুনগরী। বিভিন্ন সময়ে দলটিকে ‘ভণ্ড’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা হাবিবুর রহমান কাসেমীসহ কওমি ধারার জ্যেষ্ঠ আলেমরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ধর্মীয় ভাষ্য ও ফতোয়ার মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
দেশপক্ষ/ এমএইচ







