
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী মাত্র এক দিনের ব্যবধানে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান হাজির করেছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের ফের আলোচনা শুরু হচ্ছে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার পর এ তথ্য সামনে এসেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিয়োস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০টিরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ এর মতো বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান।
এদিকে, ইরানের সঙ্গে বড় ধরনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার খুব কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওস।
অন্যদিকে, দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
পলিটিকোর সাবেক সাংবাদিকদের গড়ে তোলা সংবাদ মাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হলে ইরানে কয়েক সপ্তাহ ধরে সামরিক অভিযান চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি সূত্রের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, সম্ভাব্য এই অভিযান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ উদ্যোগ হতে পারে। গত জুনে ইসরায়েলের নেতৃত্বে ১২ দিনের সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র এতে যোগ দিয়েছিল এবং ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। নতুন অভিযান হলে সেটির পরিধি আরও বড় হতে পারে এবং ইরানের শাসনব্যবস্থার জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ইরানে বিক্ষোভ দমনে হাজারো মানুষের মৃত্যু হলে ট্রাম্প সামরিক অভিযানের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিলেন। পরে প্রশাসন দ্বিমুখী কৌশল নেয়—একদিকে পারমাণবিক আলোচনা, অন্যদিকে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতি।
মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার ট্রাম্পের উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ জেনেভায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে তিন ঘণ্টা বৈঠক করেন। উভয় পক্ষ কিছু অগ্রগতির কথা বললেও মতপার্থক্য এখনো রয়ে গেছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে আলোচনা ইতিবাচক হলেও ইরান এখনো প্রেসিডেন্টের নির্ধারিত ‘লালরেখা’ মানতে প্রস্তুত নয়।’
এদিকে, জেনেভায় দ্বিতীয় দফা পারমাণবিক আলোচনা শুরুর দিনই যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
তুরস্কভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি মন্তব্য করেছেন—পারস্য উপসাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো চাইলে ‘সমুদ্রের তলদেশে ডুবিয়ে দেওয়া’ সম্ভব।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে সেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরী, এক ডজন যুদ্ধজাহাজ, শত শত যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ১৫০টিরও বেশি সামরিক কার্গো ফ্লাইটে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানো হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। গত ২৪ ঘণ্টায় এফ-৩৫, এফ-২২ ও এফ-১৬সহ আরও ৫০টি যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের ছাড় না দিলে ট্রাম্প পিছু হটবেন না।
টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তারাও কয়েক দিনের মধ্যেই যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে কিছু মার্কিন সূত্র বলছে, সিদ্ধান্ত নিতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।
মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম অ্যাক্সিওসকে বলেছেন, হামলা কয়েক সপ্তাহ পরে শুরু হতে পারে। তবে ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা দাবি করেছেন, সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা খুবই বেশি।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিস্তারিত প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। এর আগে, গত বছরের ১৯ জুন হোয়াইট হাউস একইভাবে দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। তিন দিন পর তারা ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ শুরু করে।
অ্যাক্সিওস দাবি করেছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা শেষ—এমন কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু আসন্ন যুদ্ধের প্রমাণ দিন দিন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
দেশপক্ষ/ এমএইচ







