ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৪:৪৮ পূর্বাহ্ন

মুক্ত হোক ডিইউজে কার্যালয়

সাংবাদিক নিপীড়নের অবসান চাই

জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার অপরাধে পাঁচজন সাংবাদিককে নিষিদ্ধ এবং চারজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে সতর্কবার্তা দেওয়ার ঘটনা আমাদের সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর এক চরম আঘাত। যে স্লোগান বাংলাদেশের অস্তিত্বের সাথে মিশে আছে, সেই স্লোগান দেওয়ার কারণে সাংবাদিকদের ‘নিষিদ্ধ’ করা স্বাধীন দেশে বাক-স্বাধীনতার টুটি চেপে ধরারই নামান্তর।

​পেশাদার সাংবাদিকদের ‘বহিরাগত’ হিসেবে চিহ্নিত করা কেবল অসৌজন্যমূলকই নয়, বরং অত্যন্ত অসম্মানজনক। যারা দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার জগতে এবং ইউনিয়ন নেতৃত্বে সক্রিয়, তাদের এভাবে ছোট করার মাধ্যমে সাংবাদিক সমাজের মাঝে সুপরিকল্পিতভাবে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

​ ডিইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মুজতবা ধ্রুব, সাইফ আলী, সোহেলী চৌধুরী, সাজেদা হক ও রহিমা খানম। এই নিষেধাজ্ঞা মুক্তমনা সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করার একটি প্রয়াস।

ডিইউজের সাবেক সভাপতি কুদ্দুস আফ্রাদ ও বর্তমান সভাপতি সাজ্জাদ আলম খান তপুসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের ওপর জারি করা সতর্কবার্তা প্রমাণ করে যে, বর্তমানে গণমাধ্যমে এক ধরণের অসহিষ্ণু ও ফ্যাসিবাদী আচরণ গেড়ে বসছে।

​২১ ফেব্রুয়ারির মতো একটি পবিত্র দিনে সাংবাদিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলা যদি ‘সতর্ক’ হওয়ার কারণ হয়, তবে আমাদের বুঝতে হবে পেশাদারিত্বের জায়গাটি আজ কতটা সংকুচিত। দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে ডিইউজে কার্যালয় তালাবদ্ধ রাখা এবং জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে সাংবাদিকদের সদস্যপদ কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কাম্য হতে পারে না।

​সাংবাদিকতা যখন হুমকির মুখে পড়ে, তখন গণতন্ত্র বিপন্ন হয়। এই সংকট উত্তরণে আমি মনে করি অবিলম্বের নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া জরুরি:
​নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার: জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে সাংবাদিকদের প্রবেশে আরোপিত অবৈধ নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নিতে হবে।

​ ডিইউজে কার্যালয়ের তালা খুলে দিয়ে সাংবাদিক সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে।
​সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া: অবৈধভাবে স্থগিত বা বাতিলকৃত সকল সদস্যপদ যথাযথ মর্যাদায় ফিরিয়ে দিতে হবে।

​নিঃশর্ত মুক্তি: মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি সাংবাদিকদের দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদমাধ্যম হলো চতুর্থ স্তম্ভ। আমি আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শুভবুদ্ধির পরিচয় দেবেন এবং সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। সাংবাদিক সমাজ একতাবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তিই কলমকে স্তব্ধ করতে পারবে না।
( মানিক লাল ঘোষ :– সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ সভাপতি)

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ