
পঞ্চগড় জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও দেবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ হারুন কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তাকে দিনাজপুর সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুলছেন—এটি কি সত্যিই স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি কারাগারের ভেতরে আরেকটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড?
পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে কারাগারের ভেতরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিত অবহেলা, নির্যাতন এবং চিকিৎসা বঞ্চনার ঘটনা বাড়ছে। তাদের দাবি, অবৈধ ইন্টারিম প্রশাসন থেকে শুরু করে বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে কারাগারগুলোকে একটি সুসংগঠিত “আওয়ামী লীগ নিধন প্রজেক্ট”-এর অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, বন্দি নেতাকর্মীদের মানসিক ও শারীরিকভাবে দুর্বল করে দেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসা সুবিধা থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এমন কিছু ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে যা সরাসরি হৃদ্যন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ডিজিটালিস গ্রুপের হৃদরোগের ওষুধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। অভিযোগ উঠেছে, অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের যথাযথ তত্ত্বাবধান ছাড়াই এই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে, যার ফলে শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও মৃত্যুকে সহজেই “স্বাভাবিক হার্ট ফেইলিওর” বলে চালিয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে যেসব আওয়ামী লীগ নেতা স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় এবং যাদের জনসমর্থন শক্তিশালী, তাদেরই একে একে টার্গেট করা হচ্ছে। এতে করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দুর্বল করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল বাস্তবায়নের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, কারাগারকে যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়নের একটি গোপন হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছে।
এদিকে হারুন অর রশিদের মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবার, দলীয় নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তারা এই মৃত্যুর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, কারাগারের ভেতরে ধারাবাহিকভাবে যেসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে, সেগুলোর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা এখন সময়ের দাবি।
প্রশ্ন এখন পুরো জাতির সামনে—কারাগার কি ন্যায়বিচারের জায়গা, নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার গোপন মৃত্যুকূপ? যদি কারাগারের ভেতরেই মানুষের জীবন নিরাপদ না থাকে, তাহলে আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রশ্ন কোথায় দাঁড়ায়?
দেশপক্ষ/ এমএইচ








