
আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের সকালে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় পাঁচ বছরের একটি শিশুসহ মোট সাতজন নারী ও পুরুষ পথচারীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ দিনে এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং উদ্বেগজনক।
৭ই মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও গৌরবময় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) দাঁড়িয়ে তার ঐতিহাসিক ও কালজয়ী ভাষণ প্রদান করেছিলেন। সেই ভাষণের মাধ্যমেই তিনি বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। এই ভাষণই মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে জাগ্রত করে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পথকে সুস্পষ্ট করে দেয়।
কিন্তু সেই ঐতিহাসিক দিনের সকালেই রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাধারণ পথচারীদের গ্রেপ্তারের ঘটনাকে অনেকেই ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে একটি ছোট শিশুকে গ্রেপ্তার করার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
সমালোচকদের মতে, ৭ই মার্চের মতো মহান ও ঐতিহাসিক দিনে যদি সাধারণ মানুষের চলাফেরা ও উপস্থিতি নিয়ে এমন দমনমূলক আচরণ করা হয়, তাহলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের দাবি, এই ধরনের পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে সরকার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার শক্তিকেই ভয় পায়।
অনেকের মতে, মুখে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার কথা বলা হলেও বাস্তবে বিএনপি সরকারের আচরণ ক্রমেই দমনমূলক ও প্রতিহিংসামূলক হয়ে উঠছে। ৭ই মার্চের চেতনাকে যথাযথ সম্মান না করে যদি গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি প্রদর্শনই নীতিতে পরিণত হয়, তাহলে তা শুধু রাজনৈতিক সংকীর্ণতাই নয়, বরং জাতির ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিও অশ্রদ্ধা প্রকাশ করে।
দেশপক্ষ/ এমএইচ