
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির স্বাধীনতার সংগ্রামে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ওই ভাষণের মধ্য দিয়েই জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।
তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া বাঙালির স্বাধীনতার সংগ্রাম দীর্ঘ আন্দোলন ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতায় রূপ নেয়। জাতির পিতা তার পুরো জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাঙালির স্বাধীন সত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য।
শেখ হাসিনা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমগ্র পাকিস্তানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা তা মেনে নিতে পারেনি। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু আগেই বুঝেছিলেন যে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে না এবং প্রয়োজনে সশস্ত্র সংগ্রামের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে থেকেই প্রবাসে অবস্থান করে বঙ্গবন্ধু ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় পাকিস্তানি শাসকদের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল এবং এতে তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করার ঘোষণার পরই সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি তখন আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সেখান থেকেই অসহযোগ আন্দোলনের নির্দেশনা দেওয়া হতো।
তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণের আগে অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে লিখিত বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দিলেও তিনি নিজের মনের কথা থেকেই ভাষণ দেন। ভাষণের সময় তিনি ঘোষণা করেন— “ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করো।” এই আহ্বানেই বাঙালি জাতি স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ঘোষণা— “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”— পুরো জাতিকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করেছিল।
তিনি বলেন, অসহযোগ আন্দোলনের ডাক পেয়ে দেশের সর্বস্তরের মানুষ তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে। এমনকি প্রেসিডেন্ট হাউসের বাঙালি বাবুর্চিরাও আন্দোলনের অংশ হিসেবে রান্না বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ছয় দফা ছিল বাঙালির মুক্তির সনদ। সেই দাবিকে কেন্দ্র করেই আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয় এবং পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি কারামুক্ত হন।
তিনি বলেন, ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা বিভিন্ন মাধ্যমে সারা দেশে প্রচার করা হয়। ওই ঘোষণাই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা করে।
শেখ হাসিনা অভিযোগ করে বলেন, স্বাধীনতার পর যখন বঙ্গবন্ধু দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিচ্ছিলেন, তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। এটি ছিল বাঙালি জাতির ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।
তিনি বলেন, বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়েও আওয়ামী লীগ বারবার জনগণের সমর্থনে ক্ষমতায় এসেছে এবং দেশকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত করেছে।
দেশপক্ষ/ এমএইচ








