
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার লড়াইয়ে চিনির বিকল্প হিসেবে গুড় ও খেজুর—দুটিই জনপ্রিয় হলেও খেজুর সাধারণত বেশি কার্যকর বলে বিবেচিত হয়।
কারণ খেজুরে আছে উচ্চ ফাইবার। আর খেজুরে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং আজেবাজে স্ন্যাকস খাওয়ার প্রবণতা কমিয়ে দেয়।
কিন্তু স্বাস্থ্যকর ডায়েট থেকে সবার আগে বাদ পড়ে চিনি। শুধু তা-ই নয়, ফিট থাকতে চিনির সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করছেন বহু মানুষ। চিনি ছেড়ে অনেকেই স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নিচ্ছেন। কেউ গুড় বা জাগেরি পাউডার মেশাচ্ছেন খাবারে। কেউ ডেজার্ট তৈরি করছেন খেজুর দিয়ে। তবে স্বাদের সঙ্গে সবসময়ে আপস করা যায় না। যদিও খাবারের স্বাদ ব্যালান্স করে লবণ-চিনিই।
যাই হোক, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিনে এক থেকে দেড় চামচ গুড় খেতে পারেন। এর চেয়ে বেশি গুড় খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে। তা ছাড়া ক্যালোরিও বেশি প্রবেশ করবে।
যাদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কম, তাদের জন্য গুড় খুবই উপযোগী। এ উপাদান আয়রনে ভরপুর। আর স্ন্যাকস হিসেবে খেজুর খেতে পারেন। খিদের মুখে দুটি খেজুর খেলেই পেট ভরে যায়। সুতরাং ওজন কমাতে চাইলে সকালবেলা দুটি খেজুর খাওয়াই যথেষ্ট। ওয়ার্কআউটের পর খেজুর খেলে সবচেয়ে ভালো উপকার মেলে।
দেখতে গেলে গুড় এবং খেজুর— দুই উপাদানই প্রাকৃতিক। কিন্তু কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর, তা জানা বেশি দরকার। গুড় না খেজুর— কোনটি খেলে উপকার বেশি পাবেন, কে এগিয়ে?
আপনার যদি ডায়াবেটিস না থাকে, তাহলে খেজুর হোক কিংবা গুড়— দুটিই নিশ্চিন্তে খাওয়া যায়। রান্নায় চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করতে পারেন। ওজন কমাতে চাইলে চিনির বদলে গুড় খাওয়া যায়। আর যারা ডায়েট মেনে পরিমাপ বুঝে খাবার খান, তারা খেজুর রাখতে পারেন। খেজুর হলো— শুকনো ফল। স্বাভাবিকভাবেই গুড়ের চেয়ে বেশি পুষ্টি রয়েছে খেজুরে।
এ ছাড়া ভিটামিন বি৬, কে, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ফাইবার রয়েছে। এ ছাড়া অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ। খেজুর শুধু যে ওজন কমায়, তা নয়। শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায় এবং একাধিক শারীরিক সমস্যা প্রতিরোধ করে। ব্যালান্স ডায়েট মেনে চললে এবং পরিমাপ বুঝে খাবার খেলে গুড় ও খেজুর দুটোই খাওয়া যায়।
দেশপক্ষ/ এমএইচ