
রমজান মাস রহমত, বরকত ও নেক আমল বৃদ্ধির মাস। এই মাসে দান-সদকা, কোরআন তিলাওয়াত এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করার গুরুত্ব বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ জীবনে রমজানের এই শিক্ষা বাস্তবভাবে তুলে ধরেছেন। তাঁর দানশীলতা ও উদারতা ছিল মানবজাতির জন্য অনন্য আদর্শ।
এ বিষয়ে একটি প্রসিদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়েছে—
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَجْوَدَ النَّاسِ وَكَانَ أَجْوَدُ مَا يَكُوْنُ فِيْ رَمَضَانَ حِيْنَ يَلْقَاهُ جِبْرِيْلُ وَكَانَ جِبْرِيْلُ يَلْقَاهُ فِيْ كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْ رَمَضَانَ فَيُدَارِسُهُ الْقُرْآنَ فَلَرَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حِيْنَ يَلْقَاهُ جِبْرِيْلُ أَجْوَدُ بِالْخَيْرِ مِنْ الرِّيحِ الْمُرْسَلَةِ
ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের মধ্যে সবচেয়ে দানশীল ছিলেন। আর রমজান মাসে যখন জিব্রীল (আ.) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন তখন তিনি আরো অধিক দানশীল হয়ে যেতেন। জিব্রীল (রা.) রমজানের প্রতি রাতে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন।
তখন আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে কোরআন পাঠ করে শুনাতেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে যখন জিব্রাঈল (আ.) দেখা করতেন, তখন তিনি মানুষের কল্যাণের জন্য পাঠানো বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল হতেন। (বুখারি, হাদিস : ৩২২০)
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অতুলনীয় দানশীলতা এবং রমজান মাসে নেক আমলের বিশেষ গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
প্রথমত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব সময়ই অত্যন্ত উদার ছিলেন।
তিনি নিজের জন্য কিছু জমা না রেখে মানুষের উপকারে ব্যয় করতে পছন্দ করতেন। কিন্তু রমজান এলে তাঁর এই দানশীলতা আরও বৃদ্ধি পেত।
দ্বিতীয়ত, রমজানের প্রতিরাতে জিব্রীল (আ.) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তখন তিনি কোরআন তিলাওয়াত করতেন। এতে বোঝা যায় যে রমজান কোরআনের মাস, তাই এই মাসে কোরআন পড়া, শোনা ও বোঝার চেষ্টা করা বিশেষ ফজিলতের কাজ।
তৃতীয়ত, হাদিসে বলা হয়েছে যে, তিনি মানুষের কল্যাণে প্রবহমান বাতাসের চেয়েও বেশি দানশীল ছিলেন।
বাতাস যেমন বিনা বাধায় সর্বত্র উপকার পৌঁছে দেয়, তেমনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের উপকারে অকৃপণভাবে দান করতেন।
এই হাদিস আমাদের শিক্ষা দেয় যে, রমজান হলো দান-সদকা, কোরআন তিলাওয়াত এবং মানুষের উপকার করার সর্বোত্তম সময়।
তাই আসুন, আমরা রমজানের এই শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করি। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী দান-সদকা করি, বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করি এবং দরিদ্র-অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই। রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণ করে যদি আমরা উদারতা ও মানবকল্যাণের চর্চা করি, তাহলে সমাজে রহমত, সহমর্মিতা ও বরকত বৃদ্ধি পাবে।
লেখক : প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক
-নি/ এমএইচ









