
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৫ মার্চ) জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদে হিসাব সহকারী লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে ভিজিডি বিতরণের মাস্টার রোলে শিশুর টিপসই গ্রহণ করে চাল উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলা পিআইও অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন জন্য ২০২৫-২০২৬ ইং অর্থ বছরের জন্য পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ৩৭ হাজার ৬শ ৭টি পরিবারের জন্য প্রতি পরিবার ১০ কেজি করে মোট ৩৭৬.০৭ মে:টন বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদে রোববার (১৫ মার্চ) বিকেলে ভিজিএফ এর চাল উত্তোলন করতে আসা নারী ও অপর এক আনুমানিক ৭ বছর বয়সী এক কন্যাশিশু ভিজিএফ কার্ডের চাল উত্তোলনের জন্য আসেন। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী লিটন মিয়া শিশুটির টিপসই নিয়ে মাস্টার রোলে স্বাক্ষরের পরিবর্তে তা গ্রহণ করেন এবং চাল উত্তোলনের ব্যবস্থা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মেহেদী হাসান এবং পাশেই ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল লতিফ উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কার্ডে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ১০ কেজি চাল বিতরণের কথা উল্লেখ ছিল। তবে প্রকৃত কার্ডধারীর পরিবর্তে শিশুর টিপসই গ্রহণ করে চাল উত্তোলনের ঘটনায় উপস্থিত অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ত্রাণ সামগ্রী গ্রহণের ক্ষেত্রে কার্ডধারী ব্যক্তি বা তার পরিবারের কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য উপস্থিত থেকে স্বাক্ষর বা টিপসই দেওয়ার বিধান রয়েছে। শিশুদের মাধ্যমে মাস্টার রোলে টিপসই গ্রহণ বা সরকারি ত্রাণ উত্তোলনের কোনো প্রশাসনিক গ্রহণযোগ্যতা নেই বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী লিটন মিয়াকে ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল লতিফ বলেন, “সরকারি মাস্টার রোলে শিশুর টিপসই নিয়ে চাল উত্তোলনের সুযোগ সৃষ্টি করা ঠিক হয়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন ছিল।”
ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেযারম্যান আফজাল হোসেন বলেন, শিশুরা চাল উত্তোলন করতে পারবে কিনা তা আমার জানা নেই। তবে হয়তো অভিভাবকরা আসতে পারে না পারায় শিশুদের পাঠিয়েছেন। তাতে দোষের কিছু মনে করছি না।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শওকত জামিল বলেন, শিশু’র টিপসহিতে ভিজিএফ কার্ডের চাল উত্তোলন করে থাকলে দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যাক্তির বিরুদ্ধে উর্ধবতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লিজা রিছিল বলেন, শিশুদের কোন এনআইডি কার্ড থাকে না, তাদের কিভাবে টিপ সহি নিয়ে চাল দেয়, সে বিষয়ে তদন্ত করে দায়িত্বশীল ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দেশপক্ষ/ এমএইচ








