
পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসলেও ফিলিস্তিনিদের জন্য সুখবর নেই। আসন্ন ঈদ এবং এর পরবর্তী সময়েও জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল।
মিডল ইস্ট আই-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই এই সিদ্ধান্তের কথা আল-আকসা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ইসলামিক ওয়াকফকে জানিয়ে দিয়েছে। ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধের অজুহাতে এই নজিরবিহীন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আল-আকসা মসজিদের প্রবেশাধিকার চরমভাবে সীমিত করা হয়েছে। প্রতিটি শিফটে মাত্র ২৫ জন ওয়াকফ কর্মীকে ভেতরে থাকার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি পাণ্ডুলিপি বিভাগের একজন বাড়তি কর্মী নিয়োগের অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। উল্টো হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, যদি কোনো অতিরিক্ত মুসলিম কর্মী ভেতরে প্রবেশ করে, তবে ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের সেখানে নিয়মিত অনুপ্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
১৯৬৭ সালে পূর্ব জেরুজালেম দখলের পর এই প্রথম কোনো রমজানে ফিলিস্তিনিরা আল-আকসা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতে পারছেন না। পবিত্র শবে কদর বা লাইলাতুল কদরের রাতেও শত শত পুলিশ মোতায়েন করে মুসল্লিদের মসজিদে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মানুষ পুরনো শহরের রাস্তায় দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছেন, যা ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
পুরনো শহরের পরিস্থিতি এখন থমথমে। আল-আকসা এবং এর আশপাশের প্রাণবন্ত বাজারগুলো এখন জনশূন্য। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র পুরনো শহরের অধিবাসীদের চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে, যার ফলে পুরো এলাকাটি একটি অবরুদ্ধ দুর্গে পরিণত হয়েছে। অথচ এই দেয়ালের মাত্র কয়েক মিটার বাইরেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চলছে, যা ইসরায়েলি বৈষম্যমূলক নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
ইসলামিক ওয়াকফ কাউন্সিলের সদস্য ড. মুস্তাফা আবু সোয়াই বলেন, পুরনো শহরকে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা আগে কখনো দেখা যায়নি। যদি নিরাপত্তার অভাবই কারণ হতো, তবে মুসল্লিদের আল-আকসার নিচের বিশাল হলগুলোতে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যেত, যেখানে হাজার হাজার মানুষ থাকতে পারে। কিন্তু মূল উদ্দেশ্য যে ইবাদতে বাধা দেওয়া, তা এখন স্পষ্ট।
ওয়াকফ কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ইসরায়েল এই ‘সাময়িক’ নিষেধাজ্ঞাকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। অভিযোগ উঠেছে, মসজিদের ভেতর এবং ডোম অফ দ্য রকের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি বাহিনী নজরদারি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে মুসলমানদের পবিত্রতম এই স্থানের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা নজরদারি কায়েম করতে চাইছে তেল আবিব।
ইতিমধ্যে আটটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তাদের মতে, আল-আকসা মসজিদের ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই এবং এই অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতিকে ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণ এবং দীর্ঘদিনের ‘স্ট্যাটাস কো’ বা স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে।
দেশপক্ষ/ এমএইচ








