ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬, ৪:০৭ পূর্বাহ্ন

ঢাকা ওয়াসায় দুর্নীতির জাল, রাজস্ব জোন-০৬ এ ঘুষের রাজত্ব

ঢাকা ওয়াসা রাজস্ব জোন- ০৬ এর উপ-প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এনায়েত করিম হলো ঢাকা ওয়াসার নতুন নিয়োগ, বদলী, কোড বানিজ্য ও ডিমোশন ও চাকুরীচ্যুত করনের মূলহোতা। কেউ তার অফিসের বদলী হয়ে আসলে তাকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে সাইড বা কোড নিতে হয় এবং প্রত্যেক মাসে প্রতি সাইড বা কোড এর বিপরীতে একটি বড় ফিক্সড এমাউন্ট ঘুষ দিতে হয়। এ কাজে তার অফিসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা, হাবিবুর রহমান ও আন অফিশিয়াল ব্যাক্তিগত সহকারী খ্যাত বিলিং সহকারী সাবেক যুবলীগ নেতা কায়সার আহম্মেদ, মো: হুমায়ন কবির, বদরুল আলম, ফরিদ উদ্দিন ঘুষ খেকো এনায়েত করিমকে আর্থিক লেনদেন বা ঘুষ গ্রহণে সহযোগিতা করে।

শুধু তাই নয় এনায়েত করিম যে অফিসে বদলী হয় না কেন তার বিশ্বস্ত বিলিং সহকারীগনকে বদলী করে নিয়ে যায় এবং ঐ সকল জোনের টপ সাইড বা কোড গুলো তাদের মাধ্যে বন্টন করা হয় এবং যেখানেই তিনি দায়িত্ব পালন করেন সেখানকার সরকারি নিয়োগপ্রাপ্ত রাজস্ব পরিদর্শকরাও অসহায় অবস্থায় থাকে।

কিছুক্ষেত্রে, ঘুষ খেকো এনায়েত করিমের কাছে ঢাকা ওয়াসার প্রশাসনও অসহায়। কেউ বদলী হয়ে এনায়েত করিম এর দায়িত্বরত জোনে বদলী বা নিয়োগ হয়ে আসলে নেগোসিয়েশনে না হলে তাকে সাইড না দিয়ে বসিয়ে রাখে যেন এটি তার আদেশে চলা নিজেস্ব অফিস এবং এনায়েত করিমের নিজস্ব এসিস্ট্যান্ট এর মাধ্যমে ওই সকল সাইড বা কোড পরিচালনা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়।

সম্প্রতি, ঢাকা ওয়াসায় ২৮ জনকে ১১/১২/২০২৫ইং তারিখে বিলিং সহকারী পদ থেকে বিভিন্ন পদে ডিমোশন /পদায়ন করা হয় এর মধ্যে রাজস্ব জোন- ০৬ থেকে ৩ জনকে ডিমোশন করা হয় ঐ ৩ জনের মধ্যে হাসান আলী, পিতা: লিয়াকত আলী তাকে মডস জোন-০৭ এ মেশিন অপারেটর পদে বদলী করে হলেও ঘুষ খেকো এনায়েত করিম মোটা অংকের টাকা ঘুষের বিনিময়ে
উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (মানব সম্পদ ও প্রশাসন), মোঃ আমিরুল ইসলাম ও প্রশাসন -১ এর সাবেক উপ-সচিব, নুরুজ্জামান মিয়াজীকে ম্যানেজ করে গত তিন মাস তাকে বিলিং সহকারী পদে বহাল রেখে গত ফেব্রুয়ারী-২৬ পর্যন্ত স্ব-পদের বেতন ভাতাদি পাচ্ছে এবং সাইড পরিচালনা করে আসছে যখন প্রশাসন বিষয়টি জেনে গত-২৯/০৩/২০২৬ইং তারিখে এনায়েত করিমকে চাপ প্রদান করলে তখন তড়িঘড়ি করে হাসান আলীর নাম বরাদ্দ (১০৩) কোড অন্য নামে বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং হাজিরা ও বেতন শীট হতেও নাম কেটে ঘষামাজা করে অন্য নাম বসিয়ে ঢাকা ওয়াসা প্রশাসনিক ভবনে প্রেরন করে।

আরো জানা যায় যে, এনায়েত করিম, বিলিং সহকারীদের কে ডিমোশন ও চাকুরীচ্যুতকরণের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে রাজস্ব জোন-০৬ সহ বিভিন্ন জোনের কর্মরত বিলিং সহকারীদের নিকট হতে জনপ্রতি ৪-৫ লক্ষ টাকা নেয় এবং এই টাকা গ্রহনে তার বিশ্বস্ত বিলিং সহকারী, সাবেক যুবলীগ নেতা কায়সার আহম্মেদ (আনার) সহযোগিতা করে। কায়সার আহম্মেদ ফ্যাসিবাদ সরকারের যুবলীগের গফরগাঁও থানার পাইথল ইউনিয়ন এর সাবেক পোষ্ট ধারী নেতা।

আগামী ১৮/০৪/২০২৬ইং “ঢাকা ওয়াসা কর্মচারী বহুমুখী সমবায় সমিতি” এর নির্বাচনে ঘুষ খেকো এনায়েত করিম “সভাপতি” পদে নির্বাচিত হয়ে ঢাকা ওয়াসাতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের স্বপ্ন দেখছে।

উল্লেখ্য যে, এসব দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে এনায়েত করিমের নিজস্ব বাহিনী দিয়ে সাংবাদিককে হেনেস্থা করে ও হুমকি দেওয়া হয়।

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ