ঢাকা, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬, ৭:০৭ পূর্বাহ্ন

‘খুঁজে পায়নি’ পুলিশ, অথচ আদালতে গিয়ে জামিন নিলেন দুই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী

burhan-mobarok

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর জোড়া খুনের মামলার অন্যতম প্রধান দুই আসামি মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ও বোরহান উদ্দিনকে দীর্ঘদিন ধরে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রীতিমতো ঘোল খাইয়ে উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছেন বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদের’ এই দুই সহযোগী।

গত ১ ফেব্রুয়ারি তারা জামিন পেলেও আদালতের আদেশটি গত ২৯ মার্চ বাকলিয়া থানায় পৌঁছানোর পর বিষয়টি জানতে পারে পুলিশ। পুলিশের খাতায় ‘পলাতক’ থাকা অবস্থায় দুর্ধর্ষ দুই সন্ত্রাসীর এভাবে জামিন নেওয়াকে গোয়েন্দা নজরদারির বড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছিল কিন্তু এরই মধ্যে তারা জোড়া খুনের মামলায় জামিন পেয়েছেন। বিষয়টি এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপক্ষকে জানানো হচ্ছে।

জোড়া খুনের নেপথ্যে: ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে আধিপত্য বিস্তার ও ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বখতিয়ার হোসেন (৩০) ও মো. আবদুল্লাহকে (৩২) গুলি করে হত্যা করা হয়। মোবারক ও বোরহান এই জোড়া খুনের মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ অন্তত ৭-৮টি করে মামলা রয়েছে।

সন্ত্রাসীদের পরিচয়ের ক্ষেত্রে জানা যায়, ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের মো. মুসার ছেলে মোবারক হোসেন ওরফে ইমন বড় সাজ্জাদ বাহিনীর অন্যতম প্রধান ক্যাডার। পুলিশের কাছে থাকা বিভিন্ন ছবিতে তাকে ১৫-২০টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র বহন করতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে বোরহান উদ্দিনের বিরুদ্ধে নির্মাণাধীন ভবনের মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না পেয়ে প্রকাশ্যে রাস্তায় গুলি চালানোর একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এমনকি কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি এবং সর্বশেষ ২৮ ফেব্রুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বাসভবনেও নির্বিচারে গুলি চালায় এই চক্রটি।

নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন: চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার এই ঘটনায় পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারির চরম ব্যর্থতা দেখছেন। তার মতে, চিহ্নিত ও আলোচিত এই দুই সন্ত্রাসীকে যথাসময়ে গ্রেপ্তার করতে না পারা পুলিশের পেশাদারিত্বের অভাব। সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা পুলিশের মৌলিক দায়িত্ব ছিল, কিন্তু তারা তা পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভূঁইয়া জানান, আসামিদের জামিন পাওয়ার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। রাষ্ট্রপক্ষ এই স্পর্শকাতর বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ