
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, “মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা”—এই প্রত্যাশা নিয়েই বাংলা নববর্ষ নতুনের বার্তা নিয়ে আসে। দুঃখ, ব্যর্থতা ও মলিনতা ভুলে সবাই এই দিনে আনন্দে জেগে ওঠে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ফসলি সন হিসেবে মোগল আমলে যে বর্ষ গণনার সূচনা হয়েছিল, তা সময়ের বিবর্তনে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে পরিণত হয়েছে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পহেলা বৈশাখ এখন বিশ্বজুড়ে বাঙালির প্রাণের উৎসব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান আমলে বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য চর্চায় বাধা দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ জাতীয় ঐক্য, অসাম্প্রদায়িকতা ও জাগরণের প্রতীক হয়ে উঠেছে।
মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, এটি এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। সরকারের উদ্যোগে ইউনেস্কো এটিকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
শেখ হাসিনা জানান, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বৈশাখী ভাতা চালু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, লোকজ ঐতিহ্য ও কৃষিভিত্তিক সমাজব্যবস্থা থেকে নতুন বছরের উৎসবের যে ধারার বিকাশ ঘটেছে, তা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নববর্ষ উদযাপনের সঙ্গেও সাদৃশ্যপূর্ণ।
সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বৈশাখী উৎসবের মাধ্যমে দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনার অগ্রযাত্রা আরও সুদৃঢ় হবে। সবাইকে পুনরায় বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান তিনি।
দেশপক্ষ/ এমএইচ