
হবিগঞ্জের মাধবপুর পৌরসভায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে কারামুক্ত এক যুবলীগ নেতার মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য ওই প্রার্থী হলেন মাধবপুর উপজেলা যুবলীগের জনশক্তি ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক শাহ নেওয়াজ শানু।
তিনি মাধবপুর পৌরসভার মরহুম আলী আকবরের ছেলে এবং পশ্চিম মাধবপুর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি স্থানীয় যুবদল নেতা আমিনুর রহমান আমিনের দায়ের করা বৈষম্যবিরোধী একটি মামলায় দীর্ঘদিন কারাবরণের পর জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরেন শাহ নেওয়াজ শানু। কারামুক্তির পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে সরব হয়ে ওঠেন তিনি।
গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুকে বিভিন্ন প্রচারণার মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন শাহ নেওয়াজ শানু। শনিবার (৯ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে মেয়র পদে প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে পৌরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছাও জানান তিনি।
এর আগেও অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিলেন শাহ নেওয়াজ শানু। সে সময় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নের ফরম সংগ্রহ করলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন না পাওয়ায় নির্বাচনে অংশ নেননি।
আবারও যুবলীগের ব্যানারে তার মেয়র পদে প্রার্থিতা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী মাঠে থাকবেন কিনা এবং কতটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন—তা নিয়েও চলছে নানা বিশ্লেষণ।
মেয়র পদপ্রার্থী শাহ নেওয়াজ শানু বলেন, “মাধবপুর পৌরসভার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় ভুগছেন। জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত হলে পৌরবাসীর সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করব। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই একটি গ্রহণযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতে পারে।”
মাধবপুর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সৈয়দ হাবিবুর রহমান বলেন, “নির্বাচন করা একজন নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। সব মতের মানুষের অংশগ্রহণে নির্বাচন আরও গ্রহণযোগ্য হবে।”
দক্ষিণ মাধবপুর উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ও যুবদল নেতা আনোয়ার হোসেন বেলাল বলেন, “আইনগত কোনো বাধা না থাকলে যে কেউ নির্বাচন করতে পারেন। তবে সন্ত্রাসী বা ফ্যাসিবাদী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।”
দেশপক্ষ/ এমএইচ