
ঈদের আনন্দের আগমুহূর্তে রাজধানী ঢাকা যেন পরিণত হয়েছে এক বিষাদময় নগরীতে। মাত্র ২৭ ঘণ্টার ব্যবধানে বিভিন্ন ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যু নগরজীবনের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এসব মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা। সড়ক দুর্ঘটনা, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা, আত্মহত্যা এবং অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির মৃত্যু, সব মিলিয়ে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটে রাজধানীর মগবাজারে। অভিযোগ উঠেছে, একটি হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) বন্ধ থাকার কারণে ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একটি শিশুর পরিবার মামলা করেছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে রাজধানীর ভাটারা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বরিশাল থেকে আসা দম্পতি কবির ও লাইজু বেগম। একই দুর্ঘটনায় নিহত হন আরেক যাত্রী খুশি বেগম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। পুলিশ বাসটি জব্দ করলেও চালক এখনও পলাতক।
মিরপুরে একটি বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অন্তঃসত্ত্বা নারী ঝুম এবং তার স্বামী হৃদয়ের ঝুলন্ত মরদেহ। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সামনে ফুটপাত থেকে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভবঘুরে হিসেবে এলাকায় অবস্থান করতেন বলে জানা গেছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, এসব ঘটনা শুধু বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা নয়; বরং নগর ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যসেবা, সড়ক নিরাপত্তা এবং সামাজিক মানসিক স্বাস্থ্যের সংকটের প্রতিফলন। তারা বলছেন, প্রতিটি মৃত্যুর পেছনের কারণ খতিয়ে দেখে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে থাকবে।
ঈদের আগে একের পর এক প্রাণহানির ঘটনায় রাজধানীবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, স্বাস্থ্যখাত এবং পরিবহন ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা ও কার্যকর তদারকি এখন সময়ের দাবি।
দেশপক্ষ/ এমএইচ