
বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের লাশকেও ভয় পায় বলে মন্তব্য করেছেন বিদেশে অবস্থানরত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ। দলটির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের জানাজার বিষয় উল্লেখ করে সম্প্রতি তিনি এ মন্তব্য করেন।
গণমাধ্যমকে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা তোফায়েল ভাই বাংলাদেশের কিংবদন্তি নেতা ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধিকার আদায়ের আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রাম, পরবর্তী দেশ পুনর্গঠন, দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতি সবকিছুতেই তার অসামান্য অবদান ছিল। বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির সঙ্গে যে মানুষগুলোর নাম জড়িয়ে আছে, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তিনি।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তিনি (তোফায়েল আহমেদ) স্বাধীনতা যুদ্ধে অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। ৯ বারের সংসদ সদস্য ছিলেন এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় নেতা ছিলেন তোফায়েল ভাই। কিন্তু আমরা দেখেছি, অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে ঢাকায় তার জানাজাস্থল থেকে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তীতে ভোলায় নেওয়ার আগে সেখানে ছাত্রদল-যুবদল বিক্ষোভ প্রদর্শন ও মাঠে জানাজা করতে না দেওয়ার ঘোষণা দেয়। যদিও সব বাধা অতিক্রম করে মাঠে বিশাল জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। যদি বাধা-বিপত্তি তৈরি করা না হতো, আরও লাখ লাখ লোকের সমাগম হতো সেখানে। ঢাকায়ও একই অবস্থা হতো।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা লক্ষ করলাম, একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটর এবং গণভবন লুটপাটের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল; তাদের লাশও শহীদ মিনারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ তোফায়েল ভাইয়ের লাশ শহীদ মিনারে নেওয়ার জন্য অনেকে ইচ্ছা প্রকাশ করলেও সরকারের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়নি, বরং শহীদ মিনারে পুলিশ পাহারা বসানো হয়। একজন আওয়ামী লীগ নেতার লাশকেও যে তারা (সরকার) ভয় পায়, সেটি তোফায়েল ভাইয়ের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে আমরা দেখতে পেলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সবাই রাজনীতি করব। কিন্তু আমাদের সামাজিক মেলবন্ধন ঠিক থাকবে। সেটি হওয়া উচিত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, মোশাররফ ভাইয়ের জানাজার পরও সেখান থেকে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তোফায়েল ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠানে বাধা তৈরি করা হয়েছে। সেখানেও অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
দেশপক্ষ/ এমএইচ