
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শরীয়তপুরের নড়িয়ায় ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলা উড়াল সেতুটির কাজ শুরু হওয়ার পরও ৬০ ভাগ কাজ শেষ হলে পুরোপুরি সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন নড়িয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও নারী নেত্রী সুলতানা রাজিয়া মনি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে তিনি তাঁর ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেন।
তিনি লিখেন, ১৯৯৭ সালে জননেত্রী হাসিনা নড়িয়ায় প্রথম এই সেতুটি করেন। পরে ২০১৫ সালে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে আমাদের প্রিয় নেতা, সাবেক ডেপুটি স্পিকার, শ্রদ্ধেয় কর্নেল (অব.) শওকত আলী সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। নাভানা কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়ে কিছু কাজ করলেও সম্পূর্ণ না করেই কাজটি ছেড়ে দেয়।
মনি বলেন, ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম সংসদ সদস্য ও উপমন্ত্রী হন। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নড়িয়াকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতা এবং নড়িয়াবাসীর সমর্থনে দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করে নদীভাঙন প্রতিরোধে সফল হন।
এই নারী নেত্রী আরও লিখেন, এদিকে, ২০১৮ সালে নড়িয়ায় ভয়াবহ নদীভাঙনের কারণে প্রকল্পটি বাধাগ্রস্ত হয়। ওই সময় প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় নদীভাঙনের ঝুঁকি বিবেচনায় নড়িয়া ব্রিজ, নড়িয়া উপজেলা কমপ্লেক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখে সরকার। নদী ভাঙনরোধ সফল হওয়ার পর জননেত্রী শেখ হাসিনা ও জননেতা এনামুল হক শামীমের প্রচেষ্টায় ২০২০ সালে নড়িয়া উপজেলা কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ভাষা সৈনিক গোলাম মাওলা উড়াল সেতুর জন্য ৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ আনতে সক্ষম হন। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে দেশের অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমের মতো এ প্রকল্পও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। পরবর্তীতে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সীমিত সক্ষমতা এবং নানান প্রতিকূলতার মাঝে জননেতা এনামুল হক প্রচেষ্টায়ই প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তিনি প্রশ্ন রেখে লিখেন, প্রশ্ন হলো—সেতুর জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও কেন সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হচ্ছে না?
আর জননেত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে ও জননেতা এনামুল হক শামীম ভাইর হাত ধরে
২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্বকালীন সময়ে করোনা মহামারির মতো কঠিন পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হয়েছে নড়িয়া-সখিপুরে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
* নড়িয়ার বেড়িবাঁধ নির্মাণ
* জয়বাংলা অ্যাভিনিউ, সোনার বাংলা অ্যাভিনিউ, কীর্তিনাশা অ্যাভিনিউ ও স্বাধীন বাংলা অ্যাভিনিউ নির্মাণ
* নড়িয়া-সখিপুরে বিদ্যুতের সক্ষমতা ১০ মেগাওয়াট থেকে ২০ মেগাওয়াটে উন্নীতকরণ
* সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ
* নড়িয়া পৌরসভাকে ‘খ’ শ্রেণি থেকে ‘ক’ শ্রেণিতে উন্নীতকরণ
* নড়িয়া পৌরসভার উন্নয়নে শত কোটি টাকার বরাদ্দ
* ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ
* নড়িয়া ও সখিপুরে বিদ্যুতের জোনাল অফিস প্রতিষ্ঠা
* একাধিক সাব-স্টেশন নির্মাণ
* দুটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক ডাকবাংলো নির্মাণ (কীর্তিনাশা ও পানি ভবন)
* বঙ্গবন্ধু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন
* নড়িয়া সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অনুমোদন
* শরীয়তপুর-চাঁদপুরে মেঘনা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ
* নড়িয়া স্টেডিয়ামের অনুমোদন
* নড়িয়া-সখিপুরের শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ
* শূন্যপদে প্রায় ৮০০ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগসহ অসংখ্য উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন
★ সখিপুরকে উপজেলা করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ
মনি সবশেষে লিখেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমার বিনীত অনুরোধ, দ্রুত সেতুটির কাজ সম্পন্ন করে নড়িয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক। পাশাপাশি নড়িয়ার অত্যাধুনিক উপজেলা হাসপাতালটি দ্রুত চালু করার দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে নড়িয়াকে রক্ষা করতে পদ্মা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
দেশপক্ষ/ এমএইচ