
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনে মুখে পার্শ্ববর্তীদেশ ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর গত দুই দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারের মন্ত্রী, এমপি, আওয়ামী লীগ নেতা ও দলটির কার্যালয়ে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এতে অনেক মানুষ হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বেশ কয়েক স্থানে সাংবাদিকদের উপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সরকার পতনের পর শরীয়তপুরে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। এ ছাড়া শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপুর বাসভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
এদিকে, গত ৬ আগস্ট সন্ধ্যায় শরীয়তপুর জেলা ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর গ্রামে শরীয়তপুর সাংবাদিক সমিতি, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আজমের গ্রামের বাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সাংবাদিক আজম পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন ঢাকায় বসবাস করেন। গ্রামের বাড়িতে তার ভাই পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। হামলাকারীরা সাংবাদিক আজমকে না পেয়ে আপন ভাই নিজাম বেপারী ও মাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আসাদুজ্জামান আজমের গ্রামের বাড়ির ভিতরে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়েছে। ঘরের দরজা, জানালা, আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে রাখা হয়েছে এবং মালামল লুট করা হয়েছে। এসময় বাড়ির সামনে দুটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটনো হয়।
আহত নিজাম বেপারী জানান, গত দুই ধরে বিদ্যুৎ নেই। এর মধ্যে গতকাল সন্ধ্যায় ১০-১২ জন লোক মুখে মুখোশ বেধে আমাদের বাড়িতে এসে আমার ভাই সাংবাদিক আজমকে খুজতে আসে। এসময় তাকে না পেয়ে আমাকে এবং মা;কে মারধর করেন। পরে পুরো বাসায় ভাংচুর চালায় সব লুট করে নিয়ে যায়। বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। যাবার সময় আজমকে পেলে প্রাণে মেরা ফেলা হবে হুমকি দেয়।
তিনি আরও বলেন, হামলার বার বার টেলিফোন করেও পুলিশ আসেনি। তারা কোনো সহায়তা দিতে পারবে না বলে জানান।