
শরীয়তপুরের সখিপুর থানায় চলতে যুবদল নেতা সম্রাট মোল্লার রাম রাজত্ব। গোটা এলাকাকে সন্ত্রাসের জনপদে পরিনত করেছেন। তিনি মোল্লার বাজারে স্বঘোষিত ডন। যখন যাকে ইচ্ছা মারধর, জমি দখল, বাজারের দোকান দখল করছেন। স্থানীয় প্রশাসনও তার পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছেন।
জানা যায়, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গোটা সখিপুর থানায় একক আধিপত্য বিস্তার করেছেন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সম্রাট মোল্লা। স্থানীয় সাংসদ শফিকুর রহমান কিরনের ছত্রছায়ায় নিজেকে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে গোটা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছেন। বালার বাজার ফেরিঘাট, মোল্ল্যার বাজার টেম্পু ষ্ট্যান্ড, ইট ভাটা সব কিছুই এখন তার নিয়ন্ত্রনে। গত ৪ মাসে মোল্ল্যার বাজারের অন্তত ৩ টি দোকা সম্রাট জোরপূর্বক দখলে নিয়েছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি এমপির ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত হওয়ার সুবাধে কাউকে পাত্তা দিচ্ছেন না তিনি। এমনকি নিজ দল বিএনপি একাধিক স্থানীয় নেতাকে মারধর ও জমি দখলেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্রাট মোল্লার কথা না শুনলেই সাধারণ মানুষের উপর নেমে আসে নির্যাতন। মোল্লার বাজারের ব্যবসায়ীরা তার হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
গত ১০ আগস্ট সোমবার মোল্লার বাজারে প্রবীণ পল্লী চিকিৎসক গোলাম মোস্তফা ও তাঁর স্ত্রী, চরকুমারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য নাসিমা বেগম আওয়ামী লীগ করার কারণে সখিপুর থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সম্রাট মোল্লার নেতৃত্বে তাদের হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গোলাম মোস্তফার দোকানে আওয়ামী লীগের লিফলেট পাওয়া গেছে। এমন অজুহাতে তাকে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারপিট করা হয়। এসময় তার স্ত্রীকেও পিটিয়ে আহত করা হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেওয়ার পর গোলাম মোস্তফাকে উদ্ধার করা হলেও পরে উল্টো তাঁর বিরুদ্ধেই মামলা করা হয়।
গোলাম মোস্তফা কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য না হলেও এ ধরণের নির্যাতনের ঘটনায় যা নিয়ে জেলা জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
এ ব্যাপারে গোলাম মোস্তফার স্ত্রী নাসিমা বেগম বলেন, আমি ২৬ বছর যাবৎ এই এলাকার মহিলা মেম্বার। আমাদের জমি দখলর জন্যই তারা (সম্রাট) আমার স্বামীর ওপর হামলা করছে। আমি খবর পেয়ে গেলে আমাকেও চরম মারধর করেছে। আমাদের অপরাধ আমরা আওয়ামী লীগ করি।
গোলাম মোস্তফার দুই মেয়ে লিপি ও হাসি বলেন, আমার বাবা-মাকে হামলা করেছে এমন খবর পেয়ে আমরা ৯৯৯ এ ফোন করলে পুলিশ আসে। উল্টো আমার বাবাকেই ধরে নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমরা ঘর থেকে বের হতে পারছি না। আমরা কার কাছে বিচার চাইবো। আমাদের অপরাধ আওয়ামী লীগ করি। আমরা এই দেশের নাগরিক না?
স্থানীয়সূত্রে ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সখিপুর থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সম্রাট মোল্লার নেতৃত্বে চরকুমারিয়া ইউনিয়নে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট তার নেতৃত্বে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি ফারুক কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া মোল্লার বাজারের অন্তত ৫০টি দোকানে লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় মোল্লা বাজারে থাকা চরকুমারিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা দোকান দখলের উদ্দেশ্যে বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে ওপর হামলা চালায় এবং জোরপূর্বক মারধর করে
আরও জানাগেছে, শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণের ডানহাত খ্যাত সম্রাট মোল্লা চরকুমারিয়া এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য সৃষ্টি করেছে। জমি দখল ও মাদক নিয়ন্ত্রণই তার মূল কাজ। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সম্রাট মোল্লার বক্তব্যর জন্য বারবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নি।
এ ব্যাপারে সখিপুর থানার ওসি মোফাজ্জল হুসাইনের বক্তব্যের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।