
দেশের শীর্ষ রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ক্রয়াদেশের (অর্ডার) ঘাটতি এবং পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির জেরে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে আরও ৪৫৭টি গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ হতে যাচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাবে আগামী শনিবার থেকেই এক লহমায় কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়ছেন প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার শ্রমিক।
কারখানা মালিকদের সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়া এবং কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে একের পর এক কারখানা উৎপাদনে টিকতে পারছে না। ব্যাংক ঋণ সহজ না হওয়া এবং বিদ্যুতের অপচয় সামাল দিতে না পেরে অধিকাংশ মাঝারি ও ছোট কারখানাগুলো কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে।
হঠাৎ কারখানা বন্ধের এ সিদ্ধান্তে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। বহু শ্রমিক এখনও বকেয়া বেতন-ভাতা পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন। কাজ হারানোর সংবাদে শিল্পাঞ্চলগুলোতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ছে।
শিল্প সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, তৈরি পোশাক খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এত বিপুলসংখ্যক কারখানা একযোগে বন্ধ হওয়া এবং পৌনে তিন লাখ মানুষের হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়া দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দ্রুত সরকারি নীতিগত সহায়তা ও ব্যাংক ঋণের শর্ত শিথিল না করা হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
দেশপক্ষ/ এমএইচ