
প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিদিশাকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার অ্যারাবিকা কফি রেস্টুরেন্ট থেকে গ্রেপ্তার করে গুলশান থানা পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।
চলতি বছরের ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামশেদ আলম ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকার পল্লবী এলাকার ব্যবসায়ী এ কে এম মোশাররফ হোসেন সিকদার ২০০১ সালে বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট ৮০ লাখ টাকায় বিক্রির বিষয়ে চুক্তি হয়।
চুক্তির অংশ হিসেবে ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা মোশাররফকে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। পরে ব্যাংকের মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করা হয় এবং উভয়ের মধ্যে বায়নানামাও সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজউকের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তা হস্তান্তর করা হয়নি বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
পরে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি টাকা ফেরতের জন্য একটি চেক দেওয়া হলেও ব্যাংকে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় চেকটি ডিজঅনার হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর দীর্ঘ সময় ধরে টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগে ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুলশান থানায় বিদিশার বিরুদ্ধে মামলা করেন মোশাররফ হোসেন সিকদার। মামলাটি তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। পরে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের মে মাসে বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।