
আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, অগ্রণী ব্যাংক ও পূবালী ব্যাংকে আমার লকার আছে। সেই পাকিন্তানের আলম থেকে আমরা গয়না রাখি এটা আমাদের পরিবারের সবার।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) রাতে একটি অডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭১ সালে আমি যখন ফিরে আসি, জিয়াউর তখন বেঁচে ছিলো আমাকে কিন্তু ৩২ নম্বরে ঢুকতে দেয় নাই। জিয়া যখন নিহত হলো তখন ছাত্তার সরকার অর্থ্যাৎ বিএনপি সরকার তখন ক্ষমতায় ১২ জুন ৩২ নম্বর আমার কাছে হস্তান্তর করে ধুলাবালি ময়লা ও রক্তের দাগ তখনো লেগে ছিলো। আমাকে দিয়ে সই করালো ৭২ পাতার দলিলে।
তিনি বলেন, তারপর শুরু হল প্রচার কত শত ভরি সোনা দানা পাওয়া গেছে । আমি বললাম পাওয়া তো যাবেই আমরা তো আর বানের জলে ভেসে আসা পরিবার না। আজ আবার অগ্রণী ব্যাংকের তালা ভেঙ্গেছে কেন তালা ভাঙ্গল ? চাবি তো আমার কাছে আমি তো এখনো বেঁচে আছি। মামলার তো কেবল একটা রায় হয়েছে মাত্র। মামলার তো সব ধাপ শেষ হয় নাই। তার আগেই কেন হাত দিবে।
আওয়ামী লীগের সভাপতি বলেন, এটা তো ইউনূসের ব্যাংক ডাকাতি, সে লোক দিয়ে ব্যাংক ডাকাতি করছে। বলে এত ভরি স্বর্ণ পাওয়া গেছে হ্যাঁ পাওয়া তো যাবেই। সেখানে আমার দাদি, নানি, আমার মা কামালের বউয়ের গয়না জামালের বউয়ের গয়না এমন কি পুতুলের বিয়ের গয়না সবই ওখানে রাখা ছিলো। কিন্তু লকার ভেঙ্গে সবাইকে দেখানো ওদের ভাবখানা হল আমি প্রধানমন্ত্রী হবার পর আমি সব ওখানে রেখেছি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি প্রধানমন্ত্রী হবার পর কবে অগ্রণী ব্যাংকে গিয়ে লকার খুলেছি আর সোনা রেখে এসেছি। সেই লক বুক বের করা হক দেখা হক। ১৯৯৬ সালে আমি প্রথম প্রধানমন্ত্রী হয়ে ছিলাম তারপর থেকে আমার মনে পরে না আমি অগ্রণী ব্যাংকে গিয়ে লকার খুলেছি। কারণ এগুলো পারিবারিক ভাবে যা ছিলো সেই গুলো রেখে এসে ছিলাম। সেখানে আমার দুইটা লকার রাখা আছে। আমার বাবাকে হত্যার পর তারা ইনভেনটরি লিষ্ট তৈরি করে ঔ লিষ্টে তারা যে গুলো মূল্যবান মনে করে ছিলো সেই গুলো আমাকে দেয়।
শেখ হাসিনা বলেন, তখন বাড়ি নাই, ঘর নাই, আমার থাকার কিছু নাই । তখন আমি লকার ভাড়া নিয়ে সে গুলো রাখি। তারা আমাদের ঘর বাড়ি যা আছে সব লুট করে নিয়ে গিয়ে ছিলো।
৩২ নম্বর বাড়ি তো আমরা জনগণকে দান করে দিয়ে ছিলাম। সেটাতে প্রথমে লুটপাট করলো তারপর আগুন দিয়ে বুলডোজার মেশিন দিয়ে ভাঙ্গল। ওজেদ সাহেবের একটা বাসা ছিলো সুদাশদন সেখানে তারা লুটপাট করলো সেখানে তো আমার অনেক গয়না ছিলো। সেগুলো দেখায় না কেন। সেগুলো কারা নিয়ে গেল।
তিনি বলেন, আমি দেশবাসিকে বলতে চাই আপনারা দেখে সর্বশেষ আমি কবে ওখানে গিয়েছি আর কবে কি রেখেছি । ব্যাংকে কিন্তু সব হিসাব থাকে সেটি দেখে আপনারা রায় দিবেন সত্যই কি আমি অপরাধী কি না ।
দেশপক্ষ/ এমএইচ









