ঢাকা, সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১:০৭ পূর্বাহ্ন

ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের দাবিতে এখনও অটল পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে তার মূল দাবি আবারও জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, কিয়েভের সেনারা রাশিয়ার দাবিকৃত অঞ্চল থেকে সরে গেলেই কেবল মস্কো হামলা বন্ধ করবে। বৃহস্পতিবার তিনি এই মন্তব্য করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

single-ad-main-1

পুতিন শুরু থেকেই জোর দিয়ে দাবি করে আসছেন যে, রাশিয়ার দখল করে নেওয়া ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডকে আইনি স্বীকৃতি দিতে হবে। এসবের মধ্যে রয়েছে ২০১৪ সালে অবৈধভাবে সংযুক্ত করা ক্রিমিয়া এবং লুহানস্ক-ডনেস্ক নিয়ে গঠিত ডনবাসের বৃহৎ অংশ, যা এখন মস্কোর নিয়ন্ত্রণে। কিয়েভ আগেই স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ডনবাসের যে অংশ তাদের হাতে রয়েছে, তা ছেড়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

কিরগিজস্তানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পুতিন বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়াই এখন এগিয়ে আছে এবং ইউক্রেনীয় সেনারা বিতর্কিত এলাকা থেকে সরে গেলেই যুদ্ধ বন্ধ হবে। যদি তারা না সরে, আমরা বল প্রয়োগে তা অর্জন করব।

তবে পূর্ব ইউক্রেনে রাশিয়ার অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর এবং এতে বিপুল জনশক্তি ক্ষয় হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার-এর হিসাব অনুযায়ী, বর্তমান গতিতে মস্কোর ডনেস্ক পুরোপুরি দখল করতে আরও প্রায় দুই বছর লাগবে।

single-ad-main-2

গত সপ্তাহে শুরু হওয়া কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে এটিই পুতিনের প্রথম প্রতিক্রিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেন একটি শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। এটি অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কর্মকর্তাদের খসড়া করা একটি পরিকল্পনার সংশোধিত রূপ। পরিকল্পনাটি শুরুতে রাশিয়ার দাবির পক্ষে ঝুঁকে ছিল। পরে তা সংশোধন করা হয়। তবে দখলকৃত অঞ্চল ও ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ইস্যুতে এখনও মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে একমত হয়নি।

পুতিন জানান, নতুন খসড়া পরিকল্পনা রাশিয়াকে দেখানো হয়েছে এবং এটি ভবিষ্যতে কোনও চুক্তির ‘ভিত্তি’ হতে পারে। তবে কিছু ‘নির্দিষ্ট বিষয়’ কূটনৈতিক ভাষায় আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ক্রিমিয়া ও ডনবাসকে রাশিয়ার দখলে বাস্তবে আছে স্বীকার করা হলেও আইনি স্বীকৃতি না দেওয়ার ধারণা নিয়ে প্রশ্ন করলে পুতিন বলেন, এটাই আমাদের আমেরিকান অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়।

তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহের প্রথমার্ধে মস্কোতে পৌঁছাবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উইটকফের সঙ্গে তার জামাতা জ্যারেড কুশনারও মস্কো যেতে পারেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পুতিন আবারও ইউক্রেনের নেতৃত্বকে অবৈধ বলে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, তাদের সঙ্গে কোনও নথিতে সই করার কোনও অর্থ হয় না।

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ