
গণভোটকে সামনে রেখে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে চালানো জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, সরকারের এই প্রচারণা নিরপেক্ষ তথ্য দেওয়ার সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে কার্যত নিজস্ব স্বার্থে গণভোটের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে।
সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি লিফলেটে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের ফলাফল তুলনামূলকভাবে উপস্থাপন করা হয়। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে— ‘হ্যাঁ’ ভোট দিলে সবকিছু পাওয়া যাবে, আর ‘না’ ভোট দিলে কিছুই পাওয়া যাবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষা ও উপস্থাপন পদ্ধতি নিরপেক্ষ সচেতনতা নয়; বরং একটি নির্দিষ্ট ভোটের পক্ষে রাষ্ট্রীয় অবস্থানকে প্রচারের রূপ নিয়েছে।
আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার রাষ্ট্রের নির্বাহী কর্তৃপক্ষ হিসেবে গণভোট বা নির্বাচনের ক্ষেত্রে তথ্য দিতে পারে, কিন্তু কোনো পক্ষের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচার চালানো আচরণবিধি ও গণতান্ত্রিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ, প্রশাসনিক কাঠামো ও সরকারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এমন বার্তা দেওয়া হলে তা ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সমালোচকদের আরও বক্তব্য, গণভোটের প্রস্তাবিত বিষয়গুলো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং এর প্রত্যেকটিরই ভিন্নমত ও বিকল্প ব্যাখ্যা রয়েছে। অথচ লিফলেটে সেগুলোকে একপাক্ষিকভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সঙ্গে যুক্ত করে ইতিবাচক আর ‘না’ ভোটকে সম্পূর্ণ নেতিবাচক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে ভোটারদের স্বাধীন মত গঠনের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে বলেও তারা মনে করেন।
নাগরিক সমাজের একাংশের মতে, সরকার যদি সত্যিই গণভোট বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে চায়, তাহলে উভয় পক্ষের যুক্তি সমানভাবে তুলে ধরা, নিরপেক্ষ ভাষা ব্যবহার, এবং প্রচারণা থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার ধারণা দূর করা এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা জরুরি ছিল।
তাদের আশঙ্কা, সরকারের এমন একতরফা প্রচারণা গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে এবং ভবিষ্যতে আইনি জটিলতারও জন্ম দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, গণভোট নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগ জনসচেতনতার বদলে সরকারের নিজস্ব রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্বার্থ রক্ষার প্রচেষ্টা কি না, সে প্রশ্নই এখন সামনে চলে এসেছে।
দেশপক্ষ/ এমএইচ









