
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার, বিচার, নির্বাচন ও গণমাধ্যম স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। নেতিবাচকতার পাল্লাই ভারী বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের ইতিবাচক অর্জনের চেয়ে নেতিবাচকতার পাল্লা ভারী বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। আজ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর অনড় অবস্থানের কারণে জুলাই সনদ দুর্বল হয়েছে। ১১টি কমিশনের ক্ষেত্রে যেগুলো বাস্তবায়ন হওয়া উচিত ছিল তার কিছুই হয়নি। সংস্কারের যতটুকু ভিত্তি হয়েছে তা দুর্বল। সংস্কার প্রক্রিয়া ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।’
বিচার ও প্রতিশোধকে একাকার করে ফেলা হয়েছে উল্লেখ করে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বিচার ও প্রতিশোধকে একাকার করে ফেলা হয়েছে। কাজেই বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। কতটুকু বিচার হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে।’
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘স্বচ্ছতা, জবাবদিহির কথা বলা সরকারের তা না থাকা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এটা ভবিষ্যতের সরকারের সামনে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে থেকে যাবে।’
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই সরকারের ভূমিকা চরম হতাশাজনক বলে জানান ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘তারা গণমাধ্যম সংস্কারের নামে যা করার চেষ্টা করেছে, তা গণমাধ্যমকে আরও বেশি শৃঙ্খলিত করবে। গণমাধ্যমকে মব দিয়ে ভয় দেখিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার প্রবণতা ছিল লক্ষনীয়। অন্তর্বর্তী সরকার গণমাধ্যমকে নতুন করে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। গণমাধ্যমের জন্য ঝুঁকি তৈরি করেছে নিজের ভেতরে কিছু শক্তিকে ক্ষমতায়িত করার জন্য। গণমাধ্যমের জন্য সরকার যে কাজ করার কথা বলছে তা মূলত গণমাধ্যমকে আরও নিয়ন্ত্রিত করার পাঁয়তারা ছাড়া কিছু নয়।’
টিআইবি নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘দেশে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যা দলীয়করণমুক্ত। জুলাই আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক দলগুলো ও আমলাতন্ত্র কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি। আবারও বলছি, রাজনৈতিক দলগুলো ও আমলাতন্ত্র কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি।’
দেশপক্ষ/ এমএইচ








