
প্রস্তাবিত হ্যাঁ-না ভোটকে কেন্দ্র করে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ‘পাতানো খেলা’ আখ্যা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি অভিযোগ করেছেন, এই ভোটের ফল আগেই নির্ধারিত এবং এর মাধ্যমে জনগণের মতামত প্রতিফলনের কোনো বাস্তব সুযোগ নেই। নির্বাচনটির স্বচ্ছতা, গ্রহণযোগ্যতা ও উদ্দেশ্য নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
এক বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের স্বাধীন মতপ্রকাশ। কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় হ্যাঁ-না ভোট আয়োজনের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে প্রশ্ন নির্ধারণ থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণার পুরো কাঠামোই সন্দেহজনক। তাঁর ভাষায়, “যে ভোটের ফল আগে থেকেই ঠিক করা থাকে, সেটি আর ভোট নয়—ওটা একটি সাজানো নাটক।”
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে গণতান্ত্রিক বৈধতা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু জনগণের অংশগ্রহণ ও আস্থা ছাড়া কোনো নির্বাচনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শেখ হাসিনার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ, প্রশাসন নিরপেক্ষ নয় এবং ভোটারদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়নি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনই জনগণের রায় নেওয়ার সাংবিধানিক ও স্বীকৃত পথ। সেটিকে পাশ কাটিয়ে হ্যাঁ-না ভোটের মতো উদ্যোগ জনগণকে বিভ্রান্ত করার শামিল। তাঁর মতে, গণভোট তখনই অর্থবহ হয়, যখন পরিবেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য থাকে। অন্যথায় এটি কেবল ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—সব ক্ষেত্রেই স্পষ্টতা নেই। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বিরোধী মত দমন ও ভিন্নমতকে উপেক্ষা করে একতরফা ফল ঘোষণার দিকে দেশকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, “জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত না করে কোনো সংস্কারের কথা বলা ভণ্ডামি। গণতন্ত্র শক্তিশালী করতে হলে আগে অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজকে এ বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
দেশপক্ষ/ এমএইচ








