ঢাকা, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬, ৪:০১ পূর্বাহ্ন

শেষ বছরে ৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ করেছে ইউনূস সরকার!

ক্ষমতার শেষ বছরে বিদেশ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলারের উপরে ঋণ করেছে ইউনূস সরকার। ফলে আরো তীব্র হয়েছে দায়-দেনার চাপ। যা বাড়তি সংকট তৈরি করবে পরিশোধের ক্ষেত্রেও। বিশ্লেষকরা মনে করেন, ঋণের অর্থের যথাযথভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি বাড়াতে হবে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়।

অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিবছর বিদেশ থেকে ঋণ করতে হয় বাংলাদেশকে। আর গেল কয়েক বছর ধরে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় না হওয়ায় সেই উৎসে নির্ভরতা বাড়ছে ধারাবাহিকভাবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কেবল ইউনূস সরকারের শেষ বছরই অতিরিক্ত ঋণ নেওয়া হয় ৯ বিলিয়ন ডলার।

যার বড় একটা অংশ ছিল সরকার পরিচালনার জন্য। তথ্য বলছে, ২০২৫ সাল শেষে বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ১১৩.৫১ বিলিয়ন ডলার, টাকার অঙ্কে যা প্রায় ১৪ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি ঋণ সাড়ে ৯৩ বিলিয়ন, আর বেসরকারি খাতে যা ২০ বিলিয়নের কিছু বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যে কাজের জন্য নেওয়া হচ্ছে, সেখান থেকে আয় করে যদি বিদেশি ঋণ হয় তাহলে শুধু দেশীয় টাকায় আয় না করে বিদেশি কারেন্সিতে আয় করে এটা পরিশোধ করার সম্ভাবনা কতটুকু, সেটা যদি আমরা নিশ্চিত করতে না পারি, তাহলে দেশীয় বা বিদেশি ঋণ বলেন- দুটোই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটা বড় বোঝা হয়ে যায়।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাজেট ফাইনান্সের জন্য কিন্তু ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হবে। কতটুকু বেশি নিতে পারবে, কী কারণে নেবে, বিচার-বিশ্লেষণ করা, ইকোনমিক রিটার্ন আছে না কি, প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা আছে না কি, প্রকল্প সময়ের বিচারে এখনই নেওয়ার প্রয়োজন আছে না কি, প্রকল্প কস্ট খুব চুলচেরা বিশ্লেষণ করে- তার ভিত্তিতে আমাদের ঋণের সিদ্ধান্তটা নিতে হবে।

তথ্য বলছে, মোট বৈদেশিক ঋণের সাড়ে ২৭ শতাংশই দীর্ঘমেয়াদি, আর সরকারি খাতে নেওয়া সোয়া ৯৩ বিলিয়নের মধ্যে বহুপাক্ষিক ঋণ সোয়া ৪৫, দ্বিপাক্ষিক সাড়ে ৩২, আর আইএমএফ-এর ঋণের পরিমাণ ৬ বিলিয়ন ডলার। ঋণের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি রাজস্ব আদায় বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, আমাদের লোন নেওয়ার স্পেসটা একটু সংকুচিত হয়ে এসেছে। আর আরেকটা হলো আমি নতুন লোন নেওয়ার আগেই আমার এই মুহূর্তে যে ফরেন এক্সচেঞ্জ, ফরেন ইন্টারেস্ট, পেমেন্ট অবলিগেশন বেড়েছে, ফরেন এক্সচেঞ্জে ডিনমিনেটেড সেটার সংকলন করা, সেটা আমাদের একটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, অর্থনীতির উপর নতুন চাপ সৃষ্টি না করে বা নতুন ঝুঁকি তৈরি না করে, সাধারণ মানুষের উপর চাপ তৈরি না করে, রাজস্বের পথ বের করাটা- এটা তো অত সহজ না। কর ফাঁকি বন্ধ করা, দুর্নীতি বন্ধ করা- এসব জায়গায় যদি আমরা দৃশ্যমান কোনো উন্নতি করতে না পারি, তাহলে কিন্তু এখান থেকে খুব একটা ফলাফল আশা করা যায় না।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা নেওয়ার সময় বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৩ বিলিয়নের কিছু বেশি।

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ