ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

ট্রাম্পের কড়া সর্তকবার্তা ইরানের সময় ফুরিয়ে আসছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ শেষের আলোচনা থমকে যাওয়ায় তেহরানের জন্য “সময় ফুরিয়ে আসছে”। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “তাদের দ্রুত নড়েচড়ে বসতে হবে, নইলে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, রোববার বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু–এর সঙ্গে ফোনালাপে ট্রাম্প এই বার্তা দেন। এর মধ্যেই ইরানের গণমাধ্যম দাবি করেছে, সংঘাত বন্ধে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন কোনো বাস্তব ছাড় দেয়নি।

আধা-সরকারি মেহর নিউজ এজেন্সির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অনমনীয় অবস্থানের কারণে আলোচনায় নতুন করে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। এর আগে এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতির ঠিক আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, চুক্তিতে রাজি না হলে “একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে”।

চলতি সপ্তাহেও ট্রাম্প বলেন, তেহরানের দাবি “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” এবং যুদ্ধবিরতি এখন “মারাত্মক সংকটাপন্ন অবস্থায়” রয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দাবি করেন, তাদের শর্তগুলো ছিল “দায়িত্বশীল” ও “উদার”।

ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের দাবির মধ্যে ছিল—সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ–এর বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ, ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা। পাশাপাশি যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ ও হরমুজ প্রণালী–এর ওপর ইরানের সার্বভৌমত্বের বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি শর্ত ছিল,ইরান কেবল একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখতে পারবে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

তবে শুক্রবার ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ওয়াশিংটনের আগের কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলার পর অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তীব্র আকার নেয়। যদিও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে, মাঝেমধ্যেই গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে।

এদিকে, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী–এর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ইরান। তেহরানের দাবি, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামও বেড়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে তাদের বন্দরগুলোতে অবরোধ জোরদার করেছে। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালালেও দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ধরনের দূরত্ব রয়ে গেছে।

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন