ঢাকা, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ন

শেখ হাসিনা ফিরবেন দেশের মানুষ ও নেতাকর্মীদের জন্য : নিখিল

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা অচিরেই বাংলাদেশে ফিরবেন। তিনি ফিরবেন নিজের জন্য নয়। তিনি ফিরবেন দেশের অপামর মানুষের জন্য, দলের কোটি কোটি নেতাকর্মীদের জন্য।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ দিন  গুনছেন কখন বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে ফিরবেন। দেশের হাল ধরবেন। দেশের মানুষ বন্দী খাঁচার থেকে মুক্তি পাবেন স্বাভাবিক জীবন পাবেন। এই দিনটির জন্য বাংলার মানুষ আজ অপেক্ষা করছে। ​নেত্রী ফিরবেন উনার প্রিয় মানুষগুলোর কাছে।

১৮ আগস্ট মঙ্গলবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ আয়োজিত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান  শেখ ফজলে শামস পরশ।

​বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম , সাবেক মন্ত্রী মহিউদ্দিন হাসান চৌধুরী নওফেল।

​যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন,  আগস্ট মাস ষড়যন্ত্রের মাস। বাঙালি জাতির বেদনার মাস, দেশ ধ্বংসের মাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে ফেলার মাস, সংবিধান ক্ষতবিক্ষত করার মাস জঙ্গি উত্থানের মাস, গণতন্ত্র হত্যার মাস। বাংলাদেশকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়ার মাস।

​এই মাসেই প্রথম ষড়যন্ত্রের শিকার যে মানুষটি সারাটি জীবন লড়াই সংগ্রাম করে একটি স্বাধীন সর্বভৌম দেশ বাঙালি জাতিকে উপহার দিয়েছেন। যিনি জীবন যৌবনের অধিকাংশ সময় কারাগার থেকে শত নির্যাতনের কাছে হার না মেনে এই জাতির জাতির কল্যাণের জন্য একটি স্বাধীন সর্বভৌম রাষ্ট্র দিয়েছেন, একটি সংবিধান দিয়েছেন, লাল সবুজের পতাকা দিয়েছেন, একটি মানচিত্র দিয়েছেন সেই মানুষটিকে সপরিবারে হত্যা করেছে প্রথম ষড়যন্ত্রের শিকার।

​তিনি বলেন, দ্বিতীয় ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন উনার সুযোগ্য কন্যা।  যিনি বাবাকে হারিয়ে মাকে হারিয়ে ভাইদেরকে হারিয়ে নিকট আত্মীয়দেরকে হারিয়ে এই দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজের নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লড়াই সংগ্রাম করে দেশের মানুষের ভোটের অধিকার ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছেন। দেশ ও জাতিকে দিয়েছেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে দিতে পেরেছেন। সেই মানুষটিকে হত্যার জন্য ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট দ্বিতীয় ষড়যন্ত্রের শিকার। ​

​তৃতীয় ষড়যন্ত্রের শিকার হয় বাংলাদেশ ২০০৫ সালের সারা বাংলাদেশে একসঙ্গে সিরিজ বোমা হামলা করে বাংলাদেশে জঙ্গি উত্থানের। আর চতুর্থ ষড়যন্ত্রের শিকার ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট। একটি দেশী-বিদেশী গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে একটি সাজানো গোছানো দেশকে ধ্বংস করে  বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত থেকে দেশটিকে কেড়ে নেওয়া।

নিখিল বলেন, নেত্রী প্রায় বলতেন আমি বঙ্গবন্ধুর কন্যা আমি দেশ বিক্রি করে ক্ষমতায় থাকতে চাই না। আমি মানুষের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় থাকতে চাই না। উনি সেদিন যা যা বলেছেন আজ আমরা তাই দেখছি। দেশ আজ দেশী প্রভুদের হাতে। দেশ আজ প্রতিনিয়ত হত্যা দর্শনের শিকার। দেশ আজ মহবের শিকার চাঁদাবাজের শিকার। কোথাও শান্তি নেই, কোথাও বলার কথা বলার অধিকার নেই, আবার নেই লেখাপড়া নেই, রেল নেই, বিদ্যুৎ নেই, কাজ নেই, কর্ম নেই চারিদিকে শুধু হাঁকাহাঁক।

​মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। মা-বোন ইজ্জত হারানের ভয়ে স্বাভাবিক জীবনে নেই। ছাত্র সমাজ ধ্বংসের ডাক ডাকতে লেখা নেই পড়া নেই শুধু অনিয়মের পথ বাংলাদেশ। নিম্ন আয়ের মানুষ আজ দিশাহারা।

ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক এ সাংসদ বলেন, ​জাতি আজ একটি বন্দী খাঁচার মধ্যে অসহায় হয়ে জীবনের শেষ দিনটির জন্য অপেক্ষা করছে। এমন একটি অবস্থায় দেশের মানুষ তাকিয়ে আছেন দেশের মানুষ তাকিয়ে আছেন একজন মানুষের দিকে যিনি মায়ের স্নেহ বোনের ভালোবাসা দিয়ে দেশের মানুষকে আগলে রেখেছিলেন।

​বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতে যতদিন দেশ ছিল ততদিন দেশের প্রতিটি মানুষ শান্তিতে ছিলেন, সুখে ছিলেন, নিরাপদ ছিলেন। সেই মানুষটি মানবতার মা আমাদের প্রিয় নেত্রী বাংলার মানুষের বিশ্বাসের ঠিকানা আস্থার ঠিকানা বঙ্গবন্ধু কন্যা থেকে তাকিয়ে আছেন।

​প্রিয় যুবলীগের ভাইবোনেরা নেত্রী দেশে ফিরবেন। উনার নিজের জন্য নয় এই দেশটিকে উদ্ধারের জন্য দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হারানো বাংলাদেশটিকে ফিরিয়ে আনার জন্য উনি দেশে ফিরবেন।

​তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা চান বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে, সুখে থাকবে, শান্তিতে থাকবে, পেট ভরে ভাত খাবে, রাত্রে সুখের ঘুম ঘুমাচ্ছে। সেটাই নেত্রী চাচ্ছেন আর সেই চাওয়া থেকেই নেত্রী সকল ষড়যন্ত্র সকল ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে ১৯৮১ সালের ১৭ ই মে দেশে এসেছিলেন।

​১৯৮১ সালের ১৭ ই মে নেত্রী যখন দেশে পা রাখলেন সকল ষড়যন্ত্র সকল ষড়যন্ত্রকারীরা সকল ষড়যন্ত্রের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে লক্ষ লক্ষ জনতা রাষ্ট্রপতি নেমে এসেছিলেন। ঠিক তেমনিভাবে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২০০৭ সালের ৭ই মে। নেত্রীকে দেশে ফিরতে দিবেন না।

​সেদিন দলের ভিতরে ষড়যন্ত্র ছিল মাইনাস টু ফর্মুলা ছিল। অনেক ভয়ভীতি ছিল। সকল ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে নেত্রীর আগমনকে স্বাগত জানানোর জন্য যুবলীগের নেতাকর্মীরা সেই এয়ারপোর্ট থেকে ৩২ পর্যন্ত নেতাকর্মীরা ঠল নামিয়েছিল।

​ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে যুবলীগের নেতাকর্মীরা। আজকের দিনে আমি প্রিয় যুবলীগের ভাইবোনদের কাছে বলতে চাই নেত্রী ফিরবেন দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য নেত্রীর কোটি কোটি নেতাকর্মীদের জন্য। যুবলীগ সেদিন নেত্রীকে ঐক্যবন্ধ ভাবে স্বাগত জানাবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন