ঢাকা, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ন

যে কারণে নওগাঁয় চার খুন জানালেন পুলিশ সুপার

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, এটি ডাকাতি নয়; প্রাথমিকভাবে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি ডাকাতি বা দস্যুতার ঘটনা মনে হচ্ছে না। পারিবারিক বা জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটতে পারে। নিহত গৃহবধূর কানে এখনো গহনা রয়েছে, যা ডাকাতির বিষয়টি নাকচ করে।” তিনি আরও জানান, ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন—নিহত হাবিবুর রহমানের বাবা নমির উদ্দিন (৭০), বোন ডালিমা ও হালিমা এবং ভাগনে সবুজ রানা (২৫)।

এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) মধ্যরাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতরা হলেন—হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা বাড়ির ভেতরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। ফজরের নামাজের পর দরজা খোলা দেখে প্রতিবেশীরা ভেতরে ঢুকে চারজনের মরদেহ দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন।

স্থানীয়দের মতে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে হাবিবুর রহমানের বোন শিরিনার সঙ্গে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল। এ নিয়ে আগেও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন অভিযোগ করেছেন, তার মেয়ের ননদ শিরিনা ও তার ছেলে সবুজ রানা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তিনি দাবি করেন, এর আগেও তারা তার মেয়ে ও জামাইকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।

ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ বলছে, তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ