ঢাকা, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ন

বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক? মুখোমুখি ট্রাম্প ও শি জিনপিং

চীনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন দুই দিনের সফরকে ঘিরে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ও কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সফরে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ইরান, তাইওয়ান, পারমাণবিক অস্ত্র, বাণিজ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনুষ্ঠেয় এই বৈঠকের আগে বুধবার বেইজিং পৌঁছানোর কথা রয়েছে ট্রাম্পের। ২০১৭ সালের পর এটিই হবে তার প্রথম চীন সফর। বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির নেতাদের এই বৈঠক ছয় মাসের বেশি সময় পর প্রথম মুখোমুখি আলোচনা হতে যাচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, বৈঠকে দুই দেশ পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজতর করতে নতুন ফোরাম গঠনের বিষয়ে একমত হতে পারে। একই সঙ্গে চীন বোয়িং বিমান, মার্কিন কৃষিপণ্য ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ক্রয় ঘোষণাও দিতে পারে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, বাণিজ্য বোর্ড ও বিনিয়োগ বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। তবে এগুলো বাস্তবায়নে আরও আলোচনা প্রয়োজন হবে।

এছাড়া, চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ পদার্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে। যদিও এই সপ্তাহেই চুক্তি নবায়ন হবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়।

বৈঠকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যুগুলোর মধ্যে থাকছে ইরান। চীন ইরানের অন্যতম প্রধান তেল ক্রেতা হওয়ায় তেহরানের ওপর বেইজিংয়ের প্রভাব রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চীনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যেন তারা ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে উৎসাহিত করে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ইরান ও রাশিয়া ইস্যুতে আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে চীনের মাধ্যমে ওই দেশগুলোর রাজস্ব আয়, প্রযুক্তি ও সম্ভাব্য অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।”

তাইওয়ান ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান বিপরীতমুখী। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের প্রধান আন্তর্জাতিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী হলেও বেইজিং দ্বীপটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ানের আশপাশে চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়লেও যুক্তরাষ্ট্র তাদের নীতিতে পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগও বাড়ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করছেন, চীনের উন্নত এআই প্রযুক্তির বিকাশ ভবিষ্যতে নতুন ধরনের সংঘাত তৈরি করতে পারে। এ কারণে দুই দেশের মধ্যে এআই ইস্যুতে একটি “যোগাযোগের মাধ্যম” তৈরির বিষয়টি আলোচনায় আসবে।

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, চীন এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প ও শির সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল গত অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায়। তখন উভয় দেশ তীব্র বাণিজ্য যুদ্ধ সাময়িকভাবে স্থগিত করতে সম্মত হয়েছিল। সেই সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করে এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় চীন বিরল খনিজ সরবরাহ সীমিত করার হুমকি দেয়।

সূত্র: রয়টার্স।

দেশপক্ষ/ এমএইচ

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ