
শরীয়তপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং তুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুব মোর্শেদ টিপু (টিপু মাদবর)-এর বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (২৮ জুন) আহত অবস্থায় ফেসবুক লাইভে এসে ওই নারী এসব অভিযোগ করেন। তাঁর ৫ মিনিট ২৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা মাহবুব মোর্শেদ টিপু।
ফেসবুক লাইভে ওই নারী দাবি করেন, ২০২১ সালে একটি হত্যা মামলায় তাঁর প্রথম স্বামী সোলেমান সরদারের ফাঁসির রায় হওয়ার পর সন্তানদের নিয়ে চরম সংকটে পড়েন। জীবিকার তাগিদে প্রথম স্বামীর দেওয়া দুই শতাংশ জমি বিক্রি করতে গিয়ে টিপু মাদবরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে ২০২৩ সালে তিনি টিপু মাদবরকে বিয়ে করেন।
তাঁর অভিযোগ, প্রথম স্বামীর দেওয়া জমি বিক্রি করে পাওয়া ১০ লাখ টাকা দ্বিতীয় স্বামী টিপু মাদবর নিয়েছেন। সম্প্রতি ওই টাকা ফেরত চাইলে টিপু মাদবর তাঁর ওপর নির্যাতন চালিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন।
ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, “টাকার লোভে টিপু মাদবর আমাকে বিয়ে করে। পরে আমার জমি বিক্রির ১০ লাখ টাকা নেয়। এই টাকা আমার সন্তানদের প্রাপ্য। টাকা ফেরত চাইতেই আমার সঙ্গে অশান্তি শুরু করে। পরে আমাকে ডিভোর্সের কথা বলে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, টিপু মাদবরের ছেলে তাঁর সন্তানকে হত্যার হুমকি দিয়েছে এবং তাঁদের শরীয়তপুরে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। তিনি সরকারের পাশাপাশি দলের কাছে ঘটনার বিচার এবং তাঁর ১০ লাখ টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে মাহবুব মোর্শেদ টিপু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি তাঁর কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি। প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সন্তানদের দেখাশোনার জন্য তাঁকে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু তিনি আমার সন্তানদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন না এবং প্রায়ই পারিবারিক কলহ সৃষ্টি করতেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বললেই আত্মহত্যার চেষ্টা করতেন। তাই আমি তাঁকে তালাক দিয়েছি।”
এ বিষয়ে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”








