
একুশ শতকের দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ যখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছিল, ঠিক তখনই প্রযুক্তি ও রাষ্ট্রভাবনার এক দূরদর্শী অভিযাত্রার প্রতীক হয়ে আবির্ভূত হন সজীব ওয়াজেদ জয়। ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই জন্মগ্রহণকারী সজীব ওয়াজেদ জয়ের শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় সময় কাটে ভারতে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তিনি বিদেশে আশ্রয় নেন। ভারতের মাটিতেই শুরু হয় তাঁর শৈশবের শিক্ষাজীবন; তিনি ভারতের স্বনামধন্য বোর্ডিং স্কুল—নৈনিতালের সেন্ট জোসেফ কলেজ এবং তামিলনাড়ুর পালানি পাহাড়ের কোডাইকানাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনা করেন।
এরপর তিনি বেঙ্গালুরু বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন বিশিষ্ট পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া এবং মাতা আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শেখ হাসিনা। পারিবারিক এই রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি তিনি পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত টেক্সাস ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লোকপ্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। জাতির পিতার এই দৌহিত্র এবং মেধাবী শিক্ষাগত যোগ্যতার অধিকারী জয় এমন একসময়ে দেশের ভবিষ্যতের রূপরেখা এঁকেছিলেন, যা আজ দেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল ও আধুনিক রাষ্ট্রে রূপান্তরের পথ দেখাচ্ছে।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ কোনো স্লোগান বা রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়; এটি প্রত্যন্ত গ্রামের প্রতিটি প্রান্ত থেকে শুরু করে জাতীয় অর্থনীতি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে দৃশ্যমান একটি বাস্তবতার নাম। এই মহাযজ্ঞের মূল স্থপতি সজীব ওয়াজেদ জয় ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের বিস্তার, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য নিরাপদ ও টেকসই কর্মপরিবেশ এবং আইটি পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি মানচিত্রে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। আর এই ডিজিটাল অগ্রযাত্রার শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আজ দেশ প্রবেশ করেছে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার দূরদর্শী মিশনে। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, পেপারলেস বা কাগজবিহীন অফিস ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিটি নাগরিকের দোরগোড়ায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুফল পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে যে স্মার্ট বাংলাদেশের রূপরেখা তিনি এঁকেছেন, তা তরুণ সমাজকে চাকরির পেছনে না ছুটে বরং উদ্যোক্তা হওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে। মূলত তাঁর হাত ধরেই আজ তথ্যপ্রযুক্তির আলোয় প্রজ্বলিত হচ্ছে আগামীর আধুনিক বাংলা।
রাজনীতির মাঠে সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতি সবসময়ই এক পরিপক্ব, প্রজ্ঞাবান ও সংযত শক্তির বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে তাঁর সুনির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পদ না থাকা সত্ত্বেও তিনি দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়, বুদ্ধিবৃত্তিক পরিকল্পনা এবং ক্রান্তিলগ্নে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ করে, মায়ের সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে থেকে দেশকে ডিজিটাল রূপান্তরের দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ক অবৈতনিক উপদেষ্টা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই পদে থেকে তিনি সরাসরি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নীতিগত সহায়তা প্রদান করে বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগতভাবে স্বাবলম্বী করার সুদূরপ্রসারী কাজ সফলভাবে পরিচালনা করেছেন। এছাড়া, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূলতার মুখেও তিনি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মনোবল অটুট রাখতে এবং দলকে ঘুরে দাঁড়াতে পালন করছেন অগ্রণী ভূমিকা।
ইতিহাসের এই সংকটময় অধ্যায়ে দাঁড়িয়ে তিনি দলের তৃণমূলকে সংগঠিত করা, অপপ্রচার মোকাবিলা এবং সঠিক তথ্যপ্রবাহ তুলে ধরার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন যে প্রতিকূলতা জয় করে ঘুরে দাঁড়ানোর রাজনৈতিক দূরদর্শিতা তাঁর রয়েছে। মাদার অব হিউম্যানিটি খ্যাত জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শ ও দিকনির্দেশনাকে সামনে রেখে তিনি পর্দার অন্তরালে থেকে দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আজ ইতিহাসের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ক্রান্তিকালীন বাঁকে দাঁড়িয়ে। ঐতিহ্যবাহী এই দলটিকে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও গতিশীল, সুসংগঠিত এবং আধুনিক করে তোলার ক্ষেত্রে সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্ব ও সুচিন্তিত দিকনির্দেশনা অপরিহার্য। আগামী দিনের রাজনীতি পুরোপুরি মেধা, প্রজ্ঞা ও তারুণ্যনির্ভর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। সনাতনী রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে ডিজিটাল উপায়ে তৃণমূলের সঙ্গে দলের সংযোগ স্থাপন, তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করা এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তাদের প্রাধান্য দেওয়ার পক্ষে তিনি সবসময় জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলকে নতুন আঙ্গিকে পুনর্গঠন করতে এবং আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সুশাসন ও জনকল্যাণমুখী রাজনীতির ধারা ফিরিয়ে আনতে তাঁর এই দূরদর্শী ভূমিকা এক নতুন রাজনৈতিক শক্তির জোগান দিচ্ছে।
তাঁর শুভ জন্মদিনে আমাদের প্রত্যাশা—তাঁর এই দূরদর্শী নেতৃত্ব ও তারুণ্যদীপ্ত মনন আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাক প্রিয় বাংলাদেশকে। মায়ের পাশে থেকে, দেশ ও দলের প্রতিটি সংকটে এবং দলের ঘুরে দাঁড়ানোর এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ে তাঁর পথচলা হোক আরও দীপ্তিময়। প্রযুক্তির আলোয় গড়া যে ডিজিটাল ও স্মার্ট বাংলাদেশের ভিত্তি তিনি স্থাপন করেছেন, তার ওপর দাঁড়িয়ে আজ আমাদের শপথ—একটি শোষণমুক্ত, আধুনিক, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার।
শুভ জন্মদিন, সজীব ওয়াজেদ জয়!
জয় হোক তারুণ্যের, জয় হোক প্রযুক্তির, জয় হোক বাংলার।
( মানিক লাল ঘোষ: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ সভাপতি)








