
জাতীয় সংসদে আইন পাসের প্রায় তিন বছর পার হলেও শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক পানি সম্পদ উপমন্ত্রী ও শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একেএম এনামুল হক শামীম।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে ‘শরীয়তপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না কেন?’ শিরোনামে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে দ্রুত কার্যক্রম শুরুর দাবি জানান। তাঁর ওই স্ট্যাটাস প্রকাশের পর ২৪ ঘণ্টায় ৯০২টি রিঅ্যাক্ট, ৮০টি কমেন্ট ও ১৫০টি শেয়ার হয়েছে বলে জানা গেছে।
কমেন্টে অনেকে ইমরান খালাসী নামে এক বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলে এতো দিনে ভিত্তি প্রস্তর উদ্বোধন সহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়ে যেতো কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো বিএনপি সরকার যতোদিন ক্ষমতায় থাকবে এই শরিয়তপুরের মাটিতে কখনোই কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হবেনা। লুৎফর সরদার নামে একজন লিখেন, শরীয়তপুরের উন্নয়নের জন্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।
ফারিয়ান সিকদার শাহআলম নামে আরেকজন লিখেন, আপনার অবদান রয়েছে অনেক,এই বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য। এমডি কামাল হোসেন লিখেন, ইনশাআল্লাহ আবার আওয়ামী লীগ আসলে হবে।
স্ট্যাটাসে এনামুল হক শামীম দাবি করেন, শরীয়তপুরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০২১ সালের ১০ জুন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির কাছে তিনি একটি আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দেন। এর পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে।
তিনি জানান, ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি ‘শেখ হাসিনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২২’-এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। পরবর্তী সময়ে শরীয়তপুরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। ২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবর জাতীয় সংসদে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৩’ পাস হয়। ১৩ নভেম্বর ২০২৩ সরকারি গেজেটে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩’ প্রকাশিত হয়। সরকারি গেজেট ও সংসদীয় নথিতেও এ তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়।
আইনে বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্দেশ্য হিসেবে কৃষিবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি, নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে উচ্চতর শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রাখার কথাও আইনে উল্লেখ রয়েছে।
এনামুল হক শামীম তাঁর স্ট্যাটাসে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু কৃষিশিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা ও কলা, গবেষণাসহ বিভিন্ন যুগোপযোগী বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে কৃষিনির্ভর শরীয়তপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিশিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ায় তৎকালীন শরীয়তপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু এবং শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করার কথাও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এনামুল হক শামীম। তাঁর ভাষ্য, গত দুই বছরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরবর্তী কার্যক্রমে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় শরীয়তপুরবাসীর মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, “প্রায় তিন বছর আগে অনুমোদনকৃত বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না কেন? সেটাই পরিতাপের বিষয়।”
এনামুল হক শামীম আরও বলেন, তাঁর বিশ্বাস, আগের সরকার ক্ষমতায় থাকলে এরই মধ্যে উপাচার্য নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থান নির্ধারণ ও ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হতো।
এদিকে, ২০২৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত আইন সংশোধন অধ্যাদেশে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামের পরিবর্তে ‘শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’ নির্ধারণ করা হয়।
আইন পাসের পরও বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম শুরু না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে এর আগেও শরীয়তপুরের বিশিষ্টজনেরা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আইন পাস হলেও দীর্ঘ সময় ধরে উপাচার্য নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগোয়নি।
শরীয়তপুরবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো গঠন, উপাচার্য নিয়োগ, স্থায়ী স্থান নির্ধারণ, ভূমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। এতে জেলার উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি কৃষি গবেষণা ও দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।









